April 10, 2026, 11:56 am

ইরানের বিজয় দাবি

‘এক রাতের মধ্যে একটি সভ্যতা ধ্বংস করে দেয়া’র হুমকি থেকে যুদ্ধবিরতি। দৃশ্যত বদলে গেছে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম যখন শেষ হয়ে আসছিল, তখন বিশ্বজুড়ে বিবেকবান মানুষের হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে থাকে। ট্রাম্প কি ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা করবেন! পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। এ জন্য ইরানের দেয়া ১০ দফা আমলে নিয়েছেন ট্রাম্প। এসব দফাকে ‘কার্যকর’ হিসেবেই বিবেচনা করছেন তিনি। কি আছে সেই ১০ দফায়, তা নিয়ে কৌতুহল। এখানে সেই ১০ দফা তুলে ধরা হলো-
১. আগ্রাসন না চালানো
২. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা
৩. পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ মেনে নেয়া
৪. সব প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা
৫. সব গৌণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা
৬. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব প্রস্তাব বাতিল করা
৭. ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির বোর্ড অব গভর্নরসের সব প্রস্তাব বাতিল করা
৮. ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা
৯. ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধরত বাহিনী প্রত্যাহার করা এবং
১০. সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, যার মধ্যে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অভিযানও অন্তর্ভুক্ত।
তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। শেষ মুহূর্তের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও সেতুগুলো ধ্বংস করার হুমকি আপাতত পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসবে।
তেহরানও জানায়, তারা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি তাদের হামলা বন্ধ করে, তবে ইরানও দুই সপ্তাহের জন্য তাদের ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ স্থগিত রাখবে। তিনি আরও বলেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সামরিক বাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল সমন্বয় করবে। তবে ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী’ পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখবে।

ইরানের বিজয় দাবি

তেহরান দাবি করেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে তারা বিজয় অর্জন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করেছে, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ও রয়েছে। এক বিবৃতিতে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অব ইরান জানায়, যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনায় ‘ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অব্যাহত নিয়ন্ত্রণ, (ইউরেনিয়াম) সমৃদ্ধকরণ মেনে নেয়া এবং সব প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পাকিস্তানের মাধ্যমে দেয়া এই প্রস্তাবের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবির মধ্যে রয়েছে- মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা, ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করা, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা
এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে চুক্তি কার্যকর করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের একটি প্রস্তাব গৃহীত হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক হবে এবং ইরানি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে।’
ওদিকে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের কাছ থেকে একটি ‘কার্যকর’ ১০ দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেয়েছেন। তিনি বলেন, এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের অনুরোধে এবং ইরান যদি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দিতে সম্মত হয়- এই শর্তে আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ ও হামলা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছি। এটি হবে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি। আমরা ইতিমধ্যে সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি। আমরা ইরানের কাছ থেকে ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছি, যা আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি।’ তিনি বলেন, অতীতের প্রায় সব বিরোধপূর্ণ বিষয়েই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং এই দুই সপ্তাহ সময় চুক্তি চূড়ান্ত করার সুযোগ দেবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা