February 27, 2026, 1:33 am

সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শত শত অভিযোগ

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শত শত অভিযোগ’। খবরে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ে। দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এসব লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যে হারে অভিযোগ আসছে তাতে মনে হচ্ছে, অভিযোগের রেকর্ড হবে। অধিকাংশ অভিযোগে অভিযোগকারী নাম প্রকাশ করেননি, তবে কয়েকটি অভিযোগে অভিযোগকারী নাম-পরিচয় উল্লেখ করেই লিখিত চিঠি দিয়েছেন দুদকে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদক অন্য সব অভিযোগ যেভাবে যাচাই করে, এসব অভিযোগও একইভাবে যাচাই করা হবে। এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সূত্র জানিয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের। গ্রামীণ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ড. ইউনূস কীভাবে নিজের নামে একটি ট্রাস্ট করে গ্রামীণ কল্যাণ এবং গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাৎ করছেন, তার বিবরণ তুলে ধরেছেন। এই অভিযোগে বলা হয়েছে, আয়কর ফাঁকি এবং অর্থ আত্মসাতের জন্য ড. ইউনূস তাঁর নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন। এই ট্রাস্টের একমাত্র কাজ হলো, ড. ইউনূসের পরিবারের দেখাশোনা করা। এভাবে ড. ইউনূস বিপুল পরিমাণ আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে ড. ইউনূস বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলেও একাধিক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন এবং অন্যান্য দুর্নীতি। একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, আসিফ নজরুল জামিন বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অভিযোগে একটি শিল্প গ্রুপের সিইও, জালিয়াতির মাধ্যমে ভাই এবং বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। ছোট বোন তার বিরুদ্ধে মামলা করে, পিবিআই মামলা তদন্ত করে জালিয়াতির প্রমাণ পায়। আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু আসিফ নজরুল ২০ কোটি টাকা নিয়ে ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন। গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিন আসিফ নজরুল বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত তথ্যও অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এভাবে আসিফ নজরুল ১৮ মাসে টাকার বিনিময়ে বহু জামিন করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে আসিফ নজরুল ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নিতেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। সাব রেজিস্ট্রার পদায়নে তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আসিফ নজরুল উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, সাভারের মতো লাভজনক এলাকার সাব রেজিস্ট্রার বদলি করেন। এসব বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি অভিযোগ এখন পর্যন্ত জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ অন্যতম। এ ছাড়াও রিজওয়ানার বিরুদ্ধে অন্যের সম্পত্তি জোর করে দখল করার অভিযোগও করা হয়েছে। একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। রিজওয়ানার স্বামী আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন কি না তা তদন্ত করার জন্য দুদককে অনুরোধ জানিয়েছেন একজন।

সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে সামিট গ্রুপের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, হাসপাতালের কেনাকাটায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ অভিযোগই ভুক্তভোগীরা নাম-ঠিকানাসহ করেছেন। ঘুষ নিয়ে কাজ না দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণও দেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন একজন। এভাবে প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকের সূত্রগুলো বলেছে, এসব অভিযোগ তারা যাচাইবাছাই করছে। যেসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে সেগুলো অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায় এবং সেগুলো আমলযোগ্য হলে তা তদন্ত করা উচিত। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা পেলে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আগেও কোনো কোনো উপদেষ্টার দপ্তরের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় কিন্তু দুদকের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এখন যেহেতু তারা সরকারে নেই তাহলে দুদক তদন্ত করে দেখতে পারে। আগেও আমরা দেখেছি যারা সরকারে থাকে তাদের বিরুদ্ধে দুদক কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এখনো তেমন ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে যদি কারও অভিযোগ আমলযোগ্য হয় সেটারও যুক্তি দুদকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে এবং আমলযোগ্য না হওয়ারও যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে কেউ যেন কারও দ্বারা হয়রানির শিকার না হন সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

কালের কণ্ঠ

‘বড় চ্যালেঞ্জে শিক্ষা খাত’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে পাসের হার ও জিপিএ ৫ বাড়লেও শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগ ক্ষমতায় বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অঙ্গনে বাংলাদেশের ডিগ্রির মান অবনমনেরও খবর আসছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দেখা যায়, ডবল জিপিএ ৫ পেয়েও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। এতে শিক্ষার মানের অবনমনের বিষয়টি স্পষ্ট। সব মিলিয়ে দেশের শিক্ষা খাত এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এ অবস্থায় নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ববি হাজ্জাজ। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. মাহদী আমিনকেও এই দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা। এরই মধ্যে শিক্ষা খাতে তিন অগ্রাধিকারের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
সেগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় কারিকুলাম রিভিউ ও পরিমার্জন এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন। পাশাপাশি ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ দিনের রোডম্যাপের মাধ্যমে কোন পর্যায়ে কিভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
বিশ্বব্যাংকের গত বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘একটি শিশু ১৮ বছর বয়সে সাধারণত ১১ বছর মেয়াদি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করে (প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি)। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শেখার মান বিবেচনায় এর মধ্যে কেবল ৬.৫ বছরের সমতুল্য শিক্ষাই অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।
বাংলাদেশ অন্তত ৪.৫ বছর পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ আমাদের দেশের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মান সপ্তম শ্রেণির সমমানের, যা শিক্ষার গুণগত দুর্বলতার একটি বড় প্রমাণ।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা অগ্রাধিকারের তালিকায় ছিল না। ছিল না বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা। ফলে মান কমে গেছে। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার মধ্যে নেই। আর চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষাঙ্গনে এখনো অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। আমি মনে করি, শিক্ষা খাতের বিশৃঙ্খলা টেনে ধরাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মানের ধস ঠেকাতে যা যা করণীয়, তা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরাতে হবে, পুরনো শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষাকে কর্মমুখী করা, বিনিয়োগ বাড়ানো, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষক সংকট, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, ডিজিটাল বৈষম্য এবং পুরনো পাঠ্যক্রমে পড়ালেখা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া প্রশাসনিক অদক্ষতা, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, উচ্চশিক্ষায় গবেষণার অভাব, শিক্ষার্থীদের মনোস্বাস্থ্য ও ঝরে পড়ার হার শিক্ষা খাতকে বাধাগ্রস্ত করছে। কারিগরি শিক্ষার পেছনে গত ১৭ বছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা যায়নি। ফলে আগের মতো এই খাত পুরোপুরিই অবহেলার মধ্যে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার একটানা দায়িত্ব পালন করলেও তারা শিক্ষার্থীর হার ও পাসের হার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে তাদের তেমন কোনো গুরুত্ব ছিল না। ফলে যেসব শিক্ষার্থী মানের দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল, তারা হোঁচট খাচ্ছে। আর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরেও রুটিন কাজ করতে করতেই সময় পার হয়েছে। তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্দোলন সামাল দিতে দিতেই সময় পার করেছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে তাদের কোনো ভাবনাই দেখা যায়নি। আগের মেয়াদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষাব্যবস্থায় নকল নির্মূলে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছিলেন এহছানুল হক মিলন। তবে তাঁর সামনে এখন একাধিক চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকার নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা শেষ করে যায়নি। ফলে তারা এখন অপেক্ষায় রয়েছে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়েও শিক্ষকদের সঙ্গে করা হয়েছে প্রহসন। অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষকরাও এমপিভুক্তির অপেক্ষা করছেন। কিছু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবি তোলা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরাও গ্রেড উন্নয়নের দাবিতে অনড় রয়েছেন।
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা ধরে রাখা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনিয়মের লাগাম টানা শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষায় মানের ক্ষেত্রে গত প্রায় দেড় যুগে বড় ধস নেমেছে। আধুনিক শিখন পদ্ধতির অভাব রয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষ শিক্ষকের তীব্র অভাব রয়েছে এবং গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামোগত দুরবস্থা রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা লাভের সুযোগ সব শিক্ষার্থীর সমান নয়, ফলে ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা বিদেশে পাড়ি জমিয়ে আর দেশে ফিরছেন না। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং মানোন্নয়ন করা বর্তমান সরকারের নতুন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নতুন সরকারপ্রধানের দূরদর্শিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে শিক্ষা খাতে। এত দিন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৃথক মন্ত্রী থাকায় তাঁরা কোনো সিদ্ধান্তে একমত হতে পারতেন না। কিন্তু এবার এই দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন মন্ত্রী দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন শিক্ষার মানোন্নয়নে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী এর বাস্তবায়ন কতটুকু করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তবে এত দিন শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তিতে দুর্নীতি, বদলি-পদায়নে অনিয়ম-দুর্নীতি, বই ছাপায় দুর্নীতি, প্রকল্পগুলোয় অস্বচ্ছতা, নিয়োগে দুর্নীতি, পরিদর্শন-তদারকিতে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সেই অনিয়ম-দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে কতখানি বের হয়ে আসতে পারেন, সেটা তাঁদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমরা দেখছি, বিভিন্ন লক্ষ্যের কথা বলছেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে আসল কাজ। আমার মনে হয়, খণ্ডিত টার্গেটের চেয়ে একটা সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। শিক্ষার মানোন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের পরামর্শক কমিটির সুপারিশও তাঁরা বিবেচনায় নিতে পারেন। আসলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি পরিকল্পনা দরকার। একই সঙ্গে তা বাস্তবায়নের কৌশলও দরকার। শিক্ষার উন্নয়নে একটি পরামর্শক কমিটিও করতে পারে সরকার।’
প্রথম আলো
‘ব্যবসায়ী গভর্নর এই প্রথম’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে মো. মোস্তাকুর রহমানকে একই পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মোস্তাকুর রহমান ব্যয় ব্যবস্থাপনা বা কস্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এফসিএমএ ডিগ্রিধারী। তিনি একজন ব্যবসায়ী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এই প্রথম একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হলো।
মোস্তাকুর রহমান হবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ অনুযায়ী মোস্তাকুর রহমানকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। ২০২৮ সালে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর চুক্তির মেয়াদ ছিল। নতুন গভর্নর নিয়োগের আগে কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের একদল কর্মকর্তা আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছিলেন।
চুক্তি বাতিলের আগে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আহসান মনসুর বলেন, ‘পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে।’ এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পরই নতুন গভর্নর নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই আহসান এইচ মনসুর বাসায় চলে যান।
নতুন গভর্নরের পরিচিতি
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের জীবনবৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালে ঢাকায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে এফসিএমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ২৩তম সদস্য ছিলেন।
পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। হেরা সোয়েটার্স নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত একটি পরিবেশবান্ধব কারখানা। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছেন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে হেরা সোয়েটার্সের ৮৬ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। ঋণটি খেলাপি হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ সুবিধার আওতায় গত বছরের জুনে তা পুনঃ তফসিল করা হয়।
রপ্তানিমুখী পোশাক ছাড়াও মোস্তাকুর রহমানের আবাসন খাতে ব্যবসা রয়েছে বলে জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও জানানো হয়, তিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে আর্থিক খাত নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে করপোরেট ফিন্যান্স, রপ্তানি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।
মোস্তাকুর রহমান বিজিএমইএ, আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) এবং ঢাকা চেম্বারের সদস্য। এসব সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে তিনি কাজ করেছেন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসছে। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরিবর্তন তো শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে হয়নি, পরিবর্তন অনেক জায়গায় হচ্ছে। এবং এটা তো হতেই থাকবে। তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের যে প্রোগ্রাম আছে, প্রেফারেন্স আছে, চিন্তা আছে, ভাবনা আছে, সবকিছুর সাথে মিলিয়ে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন সেখানে তো পরিবর্তন হবেই।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘রাজনৈতিক সরকার আসায় আওয়ামী লীগে স্বস্তি: সবুজ সংকেতের অপেক্ষা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। স্থগিত করা হয় দলটির নিবন্ধনও। এ কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। ভোটের আগে ‘নো বোট নো ভোট’ ক্যাম্পেইন চালালেও নির্বাচন প্রতিহতে তেমন কোনো কর্মসূচি দিতে দেখা যায়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে। বরং নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসায় এখন তারা ‘হাঁপ ছেড়ে বাঁচা’র মতো অবস্থায় আছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন।
কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে অবস্থানও নিয়েছেন। কিছু স্থানে কার্যালয় খোলার পর পালটা দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কেন্দ্রীয় অবস্থানকে ‘ইতিবাচক’ হিসাবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। ফলে দলটি এখন সরকারের ‘সবুজ সংকেত’র অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার ‘ছাড়’ দিলে তারা ইতিবাচক রাজনীতির পথেই ফিরতে চান।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিল। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার ঘোরতর বিরোধী। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি নমনীয় না হলে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলা সম্ভব ছিল না বলে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আছে। ফলে আওয়ামী লীগ এখন বিএনপির দিকেই তাকিয়ে আছে।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলটি আপাতত সহিংসতার পথে না গিয়ে গুছিয়ে রাজনীতি করার পক্ষে। সেক্ষেত্রে একটু ‘স্পেস’ পেলেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনাও রয়েছে আওয়ামী লীগের। যাদের কারণে অতীতে দলের ইমেজ ধ্বংস হয়েছে, তাদের আর কোনো পর্যায়েই নেতৃত্বে রাখা হবে না এটি মোটামুটি নিশ্চিত। পুরোনোদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে আনা হবে। আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা শেষ কথা হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প নেতৃত্বও ভাবা হতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ‘শেখ পরিবার’র হাতেই থাকবে দলের দায়িত্বভার। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা পেছনে থেকে দলের মূল চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করতে পারেন। আর সামনে আসতে পারেন অন্য কোনো নেতৃত্ব।
জানুয়ারিতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তার মা (শেখ হাসিনা) হয়তো আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না। কারণ, তিনি অবসর নিতে চেয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে জয়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আপনার মা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তার মানে কি এই, তিনি যদি কখনো বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারেনও, তবু তিনি আর রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকবেন না?’ জয়ের উত্তর ছিল ‘না, তিনি বৃদ্ধ। মা এখন প্রবীণ। এমনিতেও এটিই ছিল তার শেষ মেয়াদ। তিনি অবসর নিতে চেয়েছিলেন।’ ‘তাহলে কি এটি এক অর্থে হাসিনা যুগের অবসান?’-এমন পালটা প্রশ্নে জয় বলেছিলেন, ‘সম্ভবত, হ্যাঁ।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবাদ, মব, গভর্নরের বিদায়’। খবরে বলা হয়, এক দল কর্মকর্তার বিক্ষোভের মুখে বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর নিয়োগ বাতিল করে ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই প্রথম কোনো ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হলেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা চলছে।
আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা গভর্নরের উপদেষ্টা, নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক ও পিএসকে জোর করে অফিস থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে যে তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল, তাদের স্বপদে বহাল করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রগুলো জানায়, আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় নীল দল থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। শুরুতে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়ে জাতীয়তাবাদীপন্থি কর্মকর্তাদের সংগঠন সবুজ দলে দ্বিধাবিভক্তি তৈরি হয়। তবে সরকারের একটি পক্ষের সংকেতে গতকাল আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সবাই যোগ দেন। এর পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে খবর ছড়িয়ে পড়ে-গভর্নর বদল হয়েছন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পরিবর্তনকে স্বাভাবিক প্রতিনয়া উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অগ্রাধিকার, কর্মসূচি ও নীতিগত চিন্তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিবেচনার তো কিছু নেই। একটি নতুন সরকার এসেছে, তাদের নিজস্ব প্রায়োরিটি আছে। পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকেই হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে এবং এটি চলমান। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’
এর আগে কোনো গভর্নরের এভাবে বিদায় নেওয়ার নজির নেই বলে জানিয়েছেন ব্যাংক খাতের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগষ্ট চার বছরের জন্য গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান আহসান এইচ মনসুর। ওই সময় গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার পলাতক অবস্থায় পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য হয়। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে দুই ডেপুটি গভর্নর ও নীতি উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করিয়ে ব্যাংক ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এর আগে ২০১৬ সালে রিজার্ভ চুরির তথ্য লুকানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ওই সময়ও দুই ডেপুটি গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করেছিল সরকার।
আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে ১৪তম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. মোস্তাকুর রহমান সদ্য সমান্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর নিয়োগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে নেতিবাচক মতামত দেন। অর্থনীতি-সংশ্লিষ্টরাও এই নিয়োগে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, আহসান এইচ মনসুর গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থ পাচার ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কারণে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ দেখা দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত ১৬ মাসে প্রায় ১০ বিলিয়ন বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার হয়। দীর্ঘদিন দুই অজের ঘরে থাকা মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেড় বছর ধরে ডলারের দর ১২২ টাকায় স্থিতিশীল।
অবশ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নীতি সুদহার কমানোর দাবি উঠলেও মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত কমানো হবে না নীতিতে অনড় ছিলেন তিনি। খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আনায় অনেক ব্যাংক আগের মতো মুনাফা দেখাতে পারছে না। গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে প্রায় ৩৬ শতাংশে উঠেছে।
বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টা নিয়োগ দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শূন্য পদে পদোন্নতি আটকে রাখা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে তাঁর বিষয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব নিয়ে সবাই চুপ ছিলেন। কিন্তু সরকার বদলের পর কর্মকর্তাদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে
ইত্তেফাক
‘শহিদ সেনা দিবসে প্রধানমন্ত্রী: প্রতিটি সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পর শহিদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।’
গতকাল বুধবার ‘জাতীয় সেনা দিবস, ২০২৬’ উপলক্ষ্যে শহিদ সেনা অফিসারদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শ্রদ্ধা জানান। পরে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তারা শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিছুক্ষণ পরই আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী।
সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকালে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহিদকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহিদ পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হূদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান। আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পর পরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।’
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের আর্থিক খাত এখন যেন ‘সার্জারির টেবিলে’। বহু বছরের জমে থাকা খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ঋণ, দুর্বল তদারকি- সব মিলিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকি ভিত্তিক তদারকি, ব্যাংক রেজুলিউশন, ডিপোজিট সুরক্ষা, ডিজিটাল পেমেন্ট, বন্ড বাজারসহ যে কঠোর সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তাতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন মূল্যস্ফীতি, আস্থাহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ধীর প্রবৃদ্ধির ত্রিমুখী চাপে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু সুদের হার বাড়িয়ে থেমে থাকেনি; বরং পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে ‘ভিত্তি থেকে ঠিক’ করার এক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুরু করেছে। এই সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে- গভর্ন্যান্স, তদারকি, রেজুলিউশন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এর সর্বশেষ নীতিপত্রে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে- ঋণ সম্প্রসারণ নয়, আগে শৃঙ্খলা। প্রবৃদ্ধি নয়, আগে আস্থা। এই দর্শনটিই এখন ব্যাংকিং খাতের প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে নীতিগতভাবে সঠিক হলেও বাস্তবে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত, রাজনৈতিক, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা সামনে আসছে।
রাজনৈতিক অর্থনীতি : টু বিগ টু টাচ্ সমস্যা
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সঙ্কটের বড় উৎস ছিল অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ- পরিচালক, বড় শেয়ারহোল্ডার বা তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক ঋণ। এই ‘ইনসাইডার লেন্ডিং’ই বহু ব্যাংকের ব্যালান্সশিট ধ্বংস করেছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৫ সালের ৮ মে জারি করা ‘ব্যাংক-সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন’ সার্কুলারের মাধ্যমে কঠোর সীমা আরোপ করেছে।
নতুন কাঠামোতে- পরিচালক/ম্যানেজমেন্ট/ইউবিও-কে ঋণ দেয়ায় কড়া শর্ত; পুঁজি অনুপাত ও প্রভিশনিং পূরণ না করলে ডিভিডেন্ড নিষিদ্ধ; প্রকৃত মুনাফা না থাকলে স্টাফ বোনাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে- অর্থাৎ, ‘কাগুজে লাভ’ দেখিয়ে পুরস্কার নয়- নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি মূলত একটি আচরণগত সংস্কার- ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলায় আনার কৌশল।
এতে স্বল্পমেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের অসন্তোষ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের স্বাস্থ্য ভালো হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো- অনেক বড় খেলাপি ‘সিস্টেমিক’। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা মানে রাজনৈতিক চাপ। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায়ই পড়ে নিয়ন্ত্রক ক্যাপচার-এর ফাঁদে। এতে চ্যালেঞ্জ হলো- নীতিমালা আছে, কিন্তু প্রয়োগে রাজনৈতিক স্বাধীনতা কতটা থাকবে?
বণিক বার্তা
‘৫ হাজার ৭৭৫ গ্রাহকের কাছে ৩ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বড় ঋণখেলাপিদের অনেকে পাচার করা অর্থে ইউরোপ, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, দুবাই, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্থায়ী আবাস গড়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাত্র ৫ হাজার ৭৭৫ গ্রাহকের কাছেই রয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। এ ঋণখেলাপিদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও ভাঙার মতো উৎপাদনমুখী শিল্প খাত। আবার খেলাপির তালিকায় ওপরের দিকে আছেন বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। ব্যাংক খাত তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে খেলাপি ঋণ আদায় সদ্য নিয়োগ পাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ায় গত বছরের জুনে। এর পরের তিন মাসে যোগ হয়েছে আরো ৩২ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের আকারের হিসাবে খেলাপির হারের চিত্র তুলে ধরে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, সংখ্যায় কম হলেও বড় ঋণ গ্রহীতারাই খেলাপি ঋণের বড় অংশের অংশীদার। সহজ কথায়, বড় ঋণ গ্রহীতারাই বড় খেলাপি। মধ্যম আকারের গ্রাহকদের কাছে থাকা খেলাপি ঋণের পরিমাণও বিপুল। অন্যদিকে সংখ্যায় অনেক বেশি হলেও ছোট গ্রাহকের খেলাপির পরিমাণ বেশ কম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ১ কোটি টাকার নিচে ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছে এমন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের সংখ্যা ছিল ৪৪ লাখ ২৮ হাজার ১৩৬। এ শ্রেণীর গ্রাহকদের কাছে থাকা খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। ১ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন এমন ৩০ হাজার ১০৪ গ্রাহকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। আর ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার ঋণ নেয়া ৬ হাজার ৫৯৬ গ্রাহকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৫ হাজার ৪০ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেয়া ৫ হাজার ৭৭৫ গ্রাহকের কাছেই রয়েছে ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। এর মধ্যে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে এমন ১ হাজার ৭৪০ গ্রাহকের কাছে খেলাপি ঋণ রয়েছে ৪৩ হাজার ৫১ কোটি টাকার। ১ হাজার ৪৪ গ্রাহক ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে এবং তাদের খেলাপি ঋণ ৩৬ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। ৩২ হাজার ৫২৬ কোটি টাকার খেলাপি রয়েছে এমন ৭১৮ গ্রাহক ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। আর ৫০ কোটির বেশি ঋণ নিয়েছে এমন বড় গ্রাহকদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। এ শ্রেণীর গ্রাহকের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ২৭৩। ৫০ কোটির বেশি ঋণের বিভাগে ধনিক শ্রেণীর এ গ্রাহকের গড় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ১ কোটির নিচের ক্যাটাগরিতে গড় খেলাপি ঋণ মাত্র ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি এমন ঋণ খেলাপির সংখ্যা ২ হাজারের বেশি দেখালেও বাস্তবতা হচ্ছে এসব কোম্পানির মালিকানা দেশের অল্প কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। অনেক গ্রুপের মালিকানাধীন কোম্পানির সংখ্যা শতাধিক। এর মধ্যে বেনামি কোম্পানির সংখ্যা কম নয়। এমন বেনামি ও ভুইফোঁড় কোম্পানির নামে বের করে নেয়া ব্যাংক ঋণ এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার ও বিশ্লেষক ফারুক মঈনউদ্দীন মনে করেন, যে ব্যাংকগুলো বেনামি কোম্পানির নামে ঋণ দিয়েছে, সেগুলোকে খেলাপি ঋণ বলা যায় না। এগুলোকে স্রেফ লুটপাট বলা উচিত। এসব ঋণ আর কখনো আদায়ের সম্ভাবনাও নেই। এ অবস্থায় বছরের পর বছর লুটপাটকৃত বেনামি ঋণ ব্যাংকের ব্যালান্স শিটে বয়ে বেড়ানোর কোনো অর্থ হয় না। বরং এ ধরনের ঋণকে ব্যালান্স শিট থেকে বাদ দিয়ে ‘প্রোটেস্টেড বিল’-এ রূপান্তর করা দরকার। একই সঙ্গে প্রকৃত খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বাত্মক উদ্যোগ জরুরি।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘পুলিশের পোশাক বদলের বিরুদ্ধে ছিলেন এসপিরা’। খবরে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন করা হয়। তখন এর বিরোধিতা করে কেউ মুখ না খুললেও এখন প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যরা জানাচ্ছেন যে ওই সিদ্ধান্তে তাঁদের মত ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পোশাক পরিবর্তনে পুলিশ কর্মকর্তাদের যে মতামত চাওয়া হয়েছিল, তাতে কোনো জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট-প্রধানেরা সায় দেননি। পুলিশের শীর্ষ ডিআইজি পর্যায়ের এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীর ইচ্ছেতেই তাড়াহুড়ো করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এমনকি ১৪১ কোটি টাকার ওই কার্যাদেশ দেওয়া হয় একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে।
সম্প্রতি পোশাক পরিবর্তনের বিরোধিতা করে এবং আগের পোশাকে ফেরত যাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে পুলিশ ক্যাডারদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতি দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পুলিশ পুরোনো পোশাকে ফিরবে কি না, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি থেকে এখনো নতুন পোশাকের কাপড় সরবরাহ নিচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন কোনো গবেষণা ছাড়াই হয়েছে। দ্রুত দরপত্র আহ্বান, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া, দ্রুততম সময়ে কাপড় সরবরাহ, মানহীন কাপড়সহ বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে ধাপে ধাপে। এর নেপথ্যে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী। পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কেউ কেউ বিরোধিতা করলেও খোদা বকশের একক সিদ্ধান্তে পুলিশের পোশাক পালটে যায়। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলেও, খোদা বকশ চৌধুরী ক্রমাগত চাপে রাখেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও পুলিশ পরবর্তীকালে লৌহ রঙের পোশাক মেনে নেয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত বছরের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের পোশাক নিয়ে সভা হয়। সেখানে ট্রায়াল হয়। পোশাকের সেই রং দেখে পুলিশের অনেকে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দেখান। এরপর পুলিশের তখনকার মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম নতুন পোশাকের বিষয়ে সব জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট-প্রধানদের লিখিত মতামত চেয়ে চিঠি দেন। প্রত্যেকটি জেলার সুপার ও ইউনিট-প্রধানেরা পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁদের অনিচ্ছার কথা জানান। বিষয়টি আইজিপি তখনই সরকারকে জানান।
এরপরও সর্বশেষ গত জুলাইয়ে একটি ক্রাইম কনফারেন্সে সকল ইউনিট-প্রধান ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে একটি জুম মিটিং করেন তখনকার আইজিপি বাহারুল আলম। সেখানেও পুলিশের পোশাকের বিষয়ে কর্মকর্তাদের মতামত চাওয়া হয়। ওই মিটিংয়েও কর্মকর্তারা নতুন পোশাকের বিষয়ে আপত্তি জানান। পুলিশ কর্মকর্তাদের আপত্তির পরও র‍্যাব, আনসার ও পুলিশের নতুন পোশাক চূড়ান্ত করে সরকার।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রটি জানায়, তাড়াহুড়ো করে ১৪১ কোটি টাকার কাপড় কেনার দরপত্র করা হয়। কাজ পায় বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘোষিত আয়ের বাইরে সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। গত বছর দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন। এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মো. নুরুল ইসলামের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮—দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ও ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান সরকারি কোনো কেনাকাটায় অংশ নিতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও তাঁর প্রতিষ্ঠান কাপড় ক্রয়ের কাজ পায়; যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
দেশ রূপান্তর
‘ট্রাইব্যুনালে এসব কী হচ্ছে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে ব্যাপক হত্যাকা-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু ১৬ মাসের মাথায় অনিয়ম, দুর্নীতি, ট্রাইব্যুনাল থেকে তথ্য পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে এখন অস্থিরতা, হতাশা বিরাজ করছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে। একই সঙ্গে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, বিবৃতি, একে অন্যের প্রতি অবিশ্বাস, সন্দেহ এবং বিভক্তিও বাড়ছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের জায়গা থেকেও কেউ কেউ প্রকাশ্যে, কিংবা অপ্রকাশ্যে একে অন্যের প্রতি বিষোদগার করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একাধিক প্রসিকিউটর পদত্যাগ করতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন হতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে ট্রাইব্যুনাল অঙ্গনে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, দুদিন হলো তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ তার কাছে না গেলেও তিনি সার্বিক বিষয় অবগত আছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রসিকিউশনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করতে আইনগতভাবে সব সিদ্ধান্তই নেবেন বলে জানান তিনি।
বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ ১৬ জন প্রসিকিউটর কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে প্রসিকিউটর মো. আব্দুস সোবহান তরফদার ও মো. মিজানুল ইসলাম অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায়, প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম, বিএম সুলতান মাহমুদ, মো. সহিদুল ইসলাম সরদার ও ফারুক আহাম্মদ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন নয়জন প্রসিকিউটর।
গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদে তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে সরকার। একই দিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তাজুল ইসলামের বিদায়ের দিনে তিনি এবং প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ। ইতিমধ্যে তাজুল ইসলাম ও মোনাওয়ার হুসাইন তামীম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে বলেছেন, এসব অভিযোগ বিদ্বেষপ্রসূত ও মিথ্যাচার। ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম দেশে ও বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে অন্যপক্ষের করা অভিযোগ সামনে আসে গত মঙ্গলবার। প্রসিকিউশন টিম থেকে সুলতান মাহমুদকে অপসারণ করতে গত ১১ জানুয়ারি আইন ও বিচার উপদেষ্টা বরাবর একটি চিঠি দেন তাজুল ইসলাম। এতে সুলতানের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ট্রাইব্যুনালের গোপন তথ্য বাইরে সরবরাহ, বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করা, সুপ্রিম কোর্টে নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর ও গুলি করে হত্যার হুমকি, গানম্যানকে দিয়ে তুচ্ছ কারণে যত্রতত্র যাকে-তাকে গুলি করার নির্দেশ, স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুলতান মাহমুদের মন্তব্য জানতে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করলেও সাড়া মেলেনি।

সহযোগীদের খবর

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা