ডেস্ক রিপোর্ট ।
লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে (২০২৬-২৭ সেশন) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ ৬টি পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (বিএনপি সমর্থিত) জয়লাভ করেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েও বিভিন্ন পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ৮ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্যানেল থেকে কেউ বিজয়ী হতে পারেননি, যা নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার তাদের প্রার্থীরা শূন্য হাতে ফিরলেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এ কে এম হুমায়ুন কবির চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মনিরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি ২৩২ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির নজির আহমেদকে (১৩৪ ভোট) পরাজিত করেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে ২১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত রফিক উল্যাহ, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্যানেলের নুর উদ্দিন বাবুল পেয়েছেন ১৪৬ ভোট। অন্যান্য পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে আবদুল মজিদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ফখরুল ইসলাম জুয়েল, পাঠাগার সম্পাদক পদে মুহাম্মদ মোশারফ হোসাইন এবং সদস্য পদে জাফর আহমদ বিজয়ী হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে বিজয়ী ৮ জন হলেন সহ-সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক চাঁদ মনি মোহন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন, অডিটর রাকিবুল হাসান অপু এবং সদস্য পদে আজহার উদ্দিন রকি, ইউসুফ মানিক, আবদুল্লাহ আল নোমান ও আবদুর রহিম মানিক। এ ছাড়া সদস্য পদে নুরুল হুদা মুরাদ নামে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের জেলা কমিটি থেকে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সংগঠনের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ বাদে অন্যান্য পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা ব্যক্তিগত বা কৌশলী অবস্থানে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ সমর্থিত সমিতির এক সাবেক সভাপতি জানান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে কৌশলগত কারণে তারা শীর্ষ দুই পদে প্রার্থী দেননি। তবে সাধারণ সদস্যদের আগ্রহে অন্য পদগুলোতে লড়াই করে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম হুমায়ুন কবির জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির ৩৮২ জন ভোটারের মধ্যে ৩৭০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তারাবির নামাজের বিরতির কারণে ফলাফল ঘোষণা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।