নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেছেন, “জাতীয় সংহতি কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, দায়িত্ববোধ এবং দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।”
শনিবার (৭ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, “একটি রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার জন্য জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ সুপার হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের আস্থা এবং সহযোগিতা ছাড়া একটি কার্যকর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
অপরাধ দমনে নিজেদের অঙ্গীকার তুলে ধরে হাবিবুর রহমান বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা। দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা। নারী, শিশু, প্রবীণ ও ভালনারেবল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ সেবাকে আরো স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও জনবান্ধব গড়ে তোলা।”
দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণের প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আসুন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ধারণ করে আমরা দেশপ্রেম, পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা করি।”
জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলী নুর খান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়গঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনিসুল ইসলাম সানি, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়না, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আলম ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনুসহ অন্য নেতারা।
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:

