বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ

অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকীতে যশোরে লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকীতে যশোরে লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ঐতিহাসিক মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে যশোরে লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় সংগঠনটির যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের পাইপপট্টি মোড় থেকে লাল পতাকা নিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলা কমিটির সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সমীরণ বিশ্বাস এবং যশোর জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কামাল পারভেজ বুলু। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণা সরকার।
বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে শ্রমিক শ্রেণি নিজেদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নানা ধরনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ অধিকার সংকোচনের প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন করছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো যুদ্ধের প্রস্তুতি ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করে চলেছে। এর ফলে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিসর ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের মতামত ও অবস্থানকে উপেক্ষা করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেদের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। এমন বাস্তবতায় পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার বিপরীতে শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন এবং অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় আনা প্রয়োজন।
দেশের শ্রমজীবী মানুষের সংকট তুলে ধরে তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং গণতান্ত্রিক শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নেতারা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য যে পরিমাণ মজুরি প্রয়োজন, শ্রমিকরা তা পাচ্ছেন না। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
তারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে নামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমনকি শ্রমিকদের বাড়িঘরে তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা অবিলম্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া এবং আটক শ্রমিক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো প্রসঙ্গে সমাবেশে বক্তারা দেশটির রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নয়াঔপনিবেশিক ও আধাসামন্তবাদী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বলে অভিহিত করেন। তাদের বক্তব্য, সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির স্বার্থে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি ও স্বল্পমূল্যের শ্রমশক্তিকে শোষণ ও লুণ্ঠনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো স্থানীয় সহযোগী ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর সহায়তায় নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ কার্যকর করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব পরিস্থিতিকে ক্রমেই সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়তে থাকায় বাংলাদেশও বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করেন।
এ সময় মানবিক করিডোরের প্রস্তাব, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া, এনডিএসহ বিভিন্ন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিষয়গুলো জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ। এসব উদ্যোগ ও চুক্তি বাতিলের দাবিও জানান তারা।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন বাস্তবায়ন, রেশনিং ব্যবস্থা চালু, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ এবং আটক শ্রমিক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর প্রতিনিধি: