বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

ইরানে ফের বড় হামলার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

ইরানে ফের বড় হামলার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

ইরানে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালানো হবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটবে যুক্তরাষ্ট্র, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে প্রথমবারের মতো জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে। এগুলো হলো, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করা, দেশটির শাসনব্যবস্থার ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা অথবা তেহরানকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।

বৈঠক শেষে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কখনো এমন কিছু না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আমরা কি আরও এগোব?’

তিনি আরও বলেন, সম্ভব হলে ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না। তবে প্রয়োজনে এমন পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

অন্যদিকে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রস্তাবে দুই দিনের মধ্যে ধারাবাহিক কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং দেশটির জব্দ করা কিছু অর্থ ছাড় করবে। এর বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবে।

দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব রয়েছে। এসব আলোচনায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বৃহস্পতিবার মস্কোর ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান রেজায়ী।

বৈঠক শেষে তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান সাতটি শর্ত দিয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।

অন্যদিকে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে এখনো নতুন কোনো নির্দেশনা পায়নি বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপের সম্ভাব্য আগমনকেও নতুন সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবে। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝির আগে রণতরিটি সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছানোর কথা নয়।