বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ

জাবিতে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ, তালা ভেঙে বের করলেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা

জাবিতে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ, তালা ভেঙে বের করলেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিয়োগের প্রতিবাদে নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এতে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলামসহ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে তাঁদের বের করে আনেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইনস্টিটিউটের ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় ভবনের ভেতরে সিন্ডিকেটের সভা চলছিল। সভা শেষে উপাচার্য বের হতে গিয়ে ফটকে তালা দেখতে পান। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তালা ভেঙে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের বাইরে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে সোমবার এক অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়োগের পর থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম নিয়োগটি বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইনস্টিটিউটে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগ থেকে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ প্রত্যাহার করে নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানান তাঁরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে উপাচার্য ছাত্রদলকে ডেকে এনে পরিস্থিতি জটিল করেছেন।

তবে তালা ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর। তিনি বলেন, ‘আমরা তালা ভাঙিনি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’

ভবন থেকে বের হওয়ার পর উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা বা প্রয়োজন হলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। তবে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ইন্ধনদাতাদের শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান উপাচার্য।