যেখানে শান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কথা, সেই শান্তি চত্বরই দীর্ঘদিন ধরে ছিল অবহেলা আর অযত্নের শিকার। অবশেষে দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত শান্তি চত্বরটির।
পাঁচবিবি-হিলি পাকা সড়কের পাশে বাগজানা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্মিত এ স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছিল। ধুলোবালি জমে বিবর্ণ হয়ে পড়েছিল স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ। রং ও বার্নিশ না করায় এবং নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে অনেকটা দৃষ্টির আড়ালে চলে গিয়েছিল শান্তি চত্বরটি। এর ওপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনী ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে যাওয়ায় সৌন্দর্য আরও ম্লান হয়ে পড়ে। চত্বরের চারপাশে মৌসুমি দোকান এবং যাত্রীদের অপেক্ষমাণ ভ্যান-রিকশার কারণেও স্থাপনাটি অনেকটা আড়ালে থাকত।
বিগত সরকারের আমলে শান্তি চত্বরটির নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কিছু কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিনেও বাকি কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় স্থাপনাটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘করব কাজ-গড়ব দেশ’ এমন স্লোগানে বাগজানার এ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে এগিয়ে এসেছেন বাগজানার কৃতী সন্তান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ মামুন খান।
বাগজানা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রাজু মাস্টারের অনুপ্রেরণা ও সার্বিক সহযোগিতায় সোমবার রাতে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি শান্তি চত্বরটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ঘষামাজা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছেন। দিনের বেলায় ব্যস্ত সড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাতের বেলায় চলছে সংস্কার ও সৌন্দর্য ফেরানোর কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয়রা মনে করেন, বাগজানা বাসস্ট্যান্ডের এই শান্তি চত্বরটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি এলাকার পরিচিতি ও সৌন্দর্যেরও বহন করে। দীর্ঘদিন পর এর সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসী মামুন খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার এমন উদ্যোগেই শান্তি চত্বরটি আবারও ফিরে পাবে তার হারানো সৌন্দর্য এবং হয়ে উঠবে পথচারী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিনন্দন আকর্ষণ।
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি :

