ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির তোয়াক্কা না করে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য একলাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো যাবে না। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে বারবার জ্বালানির দাম বাড়ানো সরকারের দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে না।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ এমনিতেই দিশেহারা। এর মধ্যে এলপিজির দাম আবারও বাড়ানোয় জনজীবনে নতুন করে দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের পারিবারিক ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই বাড়তি ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতেই ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অথচ বাজারে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বৃদ্ধির অজুহাতে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সাধারণ জনগণের ওপর চাপানো যাবে না উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে বারবার জ্বালানির দাম বাড়ানো সরকারের দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে না।
বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট ও অযৌক্তিক মুনাফা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোক্তাদের স্বার্থে নিয়মিত বাজার তদারকির জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

