লালমনিরহাট শহরের “নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম” সিজারিয়ান অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর আদরী বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কার্যকর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলেনি।
সোমবার সকালে শহরের সাপটানা এলাকার ওই ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যুর পর তাঁকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনায় ক্লিনিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরী বেগমকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে রংপুর অথবা অন্য কোনো ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়। এ সময় বিজলী নামের এক নারী তাঁকে শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ওই ক্লিনিকে তাঁকে ভর্তি করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করে। অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। স্বজনরা রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু সোমবার সকালে ক্লিনিকে গিয়ে তাঁরা আদরীকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ক্লিনিকের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
নিহতের বোন মাফুজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘রোববার দুপুরে আমার বোনকে ক্লিনিকে নিয়ে আসি। রাত ১টার দিকে সিজারে তাঁর একটি পুত্রসন্তান হয়। কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা রক্তের প্রয়োজনের কথা জানান। রক্ত সংগ্রহ করে সকালে এসে দেখি, বোনের শরীর ঠান্ডা, কোনো কথা বলছে না। আমাদের চিৎকারে নার্সরা এসে তাঁকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু ততক্ষণে আমার বোন মারা গেছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
স্বজনদের অভিযোগ, প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর উদ্যোগও সময়মতো নেওয়া হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর একজন প্রসূতির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু। তিনি মৃত সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের ছেলে এবং শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তবে এ ঘটনায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে ক্লিনিকে গিয়েও কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হাকিম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমি বর্তমানে রংপুরে একটি সভায় রয়েছি।’
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

