বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: নভেম্বর ১, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

পোশাকশ্রমিক বোনের ত্যাগে মির্জাগঞ্জে একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন আরাফাত

পোশাকশ্রমিক বোনের ত্যাগে মির্জাগঞ্জে একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন আরাফাত

দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান মো. আরাফাত খান। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বাবার মৃত্যুতে পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে আর্থিক সংকট। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে আরাফাতের পড়াশোনা। তবে ছোট ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণে হাল ছাড়েননি বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। পোশাক কারখানায় কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ।

বড় বোনের ত্যাগ আর নিজের অধ্যবসায়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন আরাফাত। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৮৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র তিনিই এই ফল অর্জন করেছেন।

আরাফাত উপজেলার বাজিতা চতুর্থ খণ্ড গ্রামের মৃত মো. ইসমাইল খানের ছেলে। তিনি আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তার এই সাফল্যে পরিবার ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে নিজের এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে বড় বোন রুবি আক্তারের ত্যাগের কথা উল্লেখ করেছেন আরাফাত। তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর একসময় পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু বড় বোন সাহস ও সহযোগিতা দিয়ে তাকে আবার পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনেন।

আরাফাত বলেন, ‘বাবাকে হারানোর পর আমার জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ভেবেছিলাম, আমার আর লেখাপড়া হবে না। কিন্তু তখনই পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন আমার বড় বোন। তার আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়।’

তিনি আরও বলেন, পোশাকশ্রমিকের কঠিন কাজ করেও বোন যেভাবে তাকে আগলে রেখেছেন, সেই ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা করতে চান।

তবে উচ্চশিক্ষার পথে বড় বাধা পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আরাফাত। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ছোট ভাইয়ের সাফল্যে আনন্দিত বড় বোন রুবি আক্তার। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের পাঁচ সদস্যের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয় তাকে। সংসারের খরচ জোগাতে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর এই সংসারের হাল আমাকেই ধরতে হয়েছে। পরিবারের খরচ জোগাতে কঠিন পরিশ্রম করছি। আরাফাত মেধাবী। তার জন্য তেমন কিছুই করতে পারিনি। প্রবল ইচ্ছাশক্তিই তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে।’

বোনের ত্যাগ আর নিজের পরিশ্রমে অর্জিত এই সাফল্যে নতুন স্বপ্ন দেখছেন আরাফাত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে একদিন শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।