দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৩য় সমাবর্তন বানচাল করার নানামুখী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নোবিপ্রবি শাখার বিভিন্ন স্তরের পদধারী ও সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের প্রেক্ষিতে এমন অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমেজ তৈরি হয়েছে। তবে সমাবর্তনকে বানচাল করে একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদেরকে সমাবর্তন বয়কটের ডাক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক স্ট্যাটাস ও কমেন্ট প্রচার করতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্ট যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, সমাবর্তন বয়কট প্রচারণার পেছনে সরাসরি মদদদাতা হিসেবে রয়েছেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের পদধারী ও এর বিভিন্ন অনুষদ, হল ও ইউনিটের ছাত্রলীগ নেতারা।
সমাবর্তন বানচালে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদদাতাদের মধ্যে আছেন- নোবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম রহমান (জাহিদুর রহমান), সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান শুভ, সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ(তানিম), ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলের সহ-সভাপতি মোছাদ্দেক হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ বায়েজীদ তপু, সহ-সভাপতি রকিবুল হাসান রবিন ও যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাব্বির (তাহসাব সাব্বির)। এছাড়া আইন অনুষদ শাখার সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম বাকির এবং ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) পূর্ণাঙ্গ কমিটির পদপ্রত্যাশী ও জাহিদ হাসান শুভর অনুসারী শাহরিয়ার আহমেদ সিয়াম, নোবিপ্রবি ছাত্রলীগ কর্মী ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, নোবিপ্রবি শাখার প্রচার সম্পাদক আবু ইউসুফও।
সমাবর্তনকে ‘বন্ধুবান্ধবহীন সমাবর্তন’ উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইন অনুষদের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম বাকির লিখেন,
“যে সমাবর্তনে আমি নাই,
আমার সব বন্ধুবান্ধব নাই,
আমার সিনিয়ররা এবং জুনিয়র ভাই-বোনেরা থাকবে না, সে সমাবর্তন আমি মানি না। ✊✊ #boycotts
#BOYCOT_Convocation”
এছাড়া মোছাদ্দেক হোসেন ও রকিবুল হাসান রবিনসহ অন্যান্য ছাত্রলীগ নেতারাও এই বয়কট ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ১ হাজার টাকা কমিয়েছে নোবিপ্রবি প্রশাসন। গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে ৩য় সমাবর্তনের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক/স্নাতকোত্তর/পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা (আইআইটি ও আইআইএস)/প্রফেশনাল মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য নিবন্ধন ফি ৫ হাজার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার টাকা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় ডিগ্রি একসঙ্গে থাকলে ৬ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সমাবর্তন দিন অভিভাবকদের ক্যাম্পাসে আসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন মিলনায়তনে স্ক্রিনের মাধ্যমে তারা অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে অভিভাবকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য গাউন সংগ্রহের সময় ‘অভিভাবক পাস’ সংগ্রহের অনুরোধও জানিয়েছে প্রশাসন।
সমাবর্তন ফি কমানোর ফলে কাজ করেনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবর্তন বানচালের পরিকল্পনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ভুত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করার ক্ষীণ সম্ভাবনা থেকে বয়কটের পথ বেঁচে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তাঁরা নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত সমাবর্তন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
তবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সমাবর্তন বয়কট ও অপপ্রচার প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “এ ধরনের প্রোপাগান্ডা তারা চালালে চালাক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নির্ধারিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। এসব বিষয় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বুঝতে পারে এখন। শিক্ষার্থীরা অপপ্রচারের পেছনে না ছুটে আমাদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও সার্কুলারগুলোতে আমরা সব তথ্য স্পষ্ট দিয়ে দিয়েছি, সেখান থেকে তারা সঠিক তথ্য পাবে।”
সেলিনা জিন্নাত ঐশী, নোবিপ্রবি (নোয়াখালী) :

