নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আজিজুল মালুম নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে জমির ব্যবসা করে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন এবং সেই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দাউদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাউদপুর ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের শামসুল হক মালুমের ছেলে।
২০১৬ সালে আজিজুল মালুম শিমুলিয়া মালুম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্ব পাশে এবং আজাহার মালুমের বাড়ির দক্ষিণ পাশসংলগ্ন ১১ শতাংশ জমি শিমুলিয়া গ্রামের লেহাজউদ্দিনের ওয়ারিশ আফাজউদ্দিন ও ফাইজউদ্দিন গংয়ের কাছ থেকে নিজের নামে বায়না করেন। পরে ওই জমিতে নিজের মোবাইল নম্বর সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। জমিটি পূর্বাচল উপশহরের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় বিএনপি নেতা, দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা এবং ঢাকা হাইকোর্ট ও জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বুলবুল আহমেদ জমিটি ক্রয় করেন।
অ্যাডভোকেট বুলবুল আহমেদের সূত্র ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে আজিজুল মালুমের পরিচয় হয় বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই আজিজুল মালুমের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সমীকরণের সূচনা হয়। একসময় রুহুল কবির রিজভী দলীয় লোকজন নিয়ে আজিজুল মালুমের শিমুলিয়া গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে আজিজুল মালুম রাতের আঁধারে ঢাকায় রুহুল কবির রিজভীর বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন কৌশলে শিমুলিয়া গ্রামের আলিমউদ্দিন গং ও হামিদউল্লাহ গংয়ের জমি দখল করে তাঁদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ রয়েছে আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। কৃষকদের ফাঁদে ফেলে জমি ও বসতবাড়ি দখলে নিয়ে বসুন্ধরা আবাসন প্রকল্পের কাছে বিক্রি করা হয়। এ সময় জমি বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া শিমুলিয়া মালুম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্ব পাশে নজিমের গোষ্ঠীর আলিমউদ্দিন গং, হামিদউল্লাহ গং (রাজমিস্ত্রি), মন্টু গং, আতা গংসহ আরও অনেকের জমি আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের অভিযোগ, জমির মূল্য পরিশোধ না করেই জমি দখল করে তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচিত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাঞ্জুর বাড়ির পূর্ব পাশে জাকির বাড়ি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে তাঁকে নিঃস্ব করার অভিযোগও উঠেছে আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে। ওই জমি দখলে নিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে দৃশ্যমান।
বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও আজিজুল মালুম গ্রেপ্তার হচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সখ্যের কারণে তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আজিজুল মালুম প্রায়ই রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। এসব ছবি ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলে আজিজুল মালুম দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন। বর্তমানে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, তিনি আসলে যুবলীগের নেতা, নাকি যুবদলের নেতা?
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ, অর্থ ও প্লটের মালিক হয়েছেন আজিজুল মালুম। একইভাবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে তাঁকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্টাফ রিপোর্টার:

