বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১:১৬ অপরাহ্ণ প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যু: ছয় ঘণ্টা সঙ্গে থাকা দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যু: ছয় ঘণ্টা সঙ্গে থাকা দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিসিটিভি ফুটেজে শেষবার একসঙ্গে

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে। সেখানে তারা হাত মেলানোর পর পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে চলে যান।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা একটি ওয়ার্কশপে যান। মেরামত শেষে একসঙ্গে খাবার খেয়ে দুজন আলাদা হয়ে যান। তবে এরপর তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দীপের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার মরদেহ

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নদী পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

পরে হাতে থাকা বিশেষ ঘড়ি ও প্যান্টের পকেটে পাওয়া আইফোনের মাধ্যমে স্বজনেরা মরদেহটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের অভিযোগ, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন।