সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী ২১ লাখের বেশি। অথচ নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৩৩টি। এর মধ্যে ১১টি ভোটই এসেছে নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। ভারতের রাজস্থানে পঞ্চায়েত নির্বাচনে এমন অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন ওমপ্রকাশ বিষ্ণোই নামের এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজস্থানের যোধপুর জেলার ওসিয়ান তহসিলের ইন্দন কি ধানি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে সরপঞ্চ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ওমপ্রকাশ। নিজেকে জ্যোতিষী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তি ইউটিউবার হিসেবেও পরিচিত। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউব মিলিয়ে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ১৪ লাখ, ফেসবুকে ২ লাখ ৩২ হাজার এবং ইউটিউবে প্রায় ৫ লাখ অনুসারী রয়েছে।
প্রায় ১ হাজার ৬০০ ভোটারের ওই গ্রামে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে একজন শিক্ষক পেয়েছেন ৫২৭ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিপরীতে, বিপুল অনলাইন জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ওমপ্রকাশের ঝুলিতে জমা পড়ে মাত্র ৩৩ ভোট।
ওমপ্রকাশ জানান, গ্রামের মানুষ তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। তাঁদের আশ্বাসে বড় ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী ছিলেন তিনি। তবে ভোট গণনার পর ফল দেখে হতাশ হন।
তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসী বলেছিলেন, আপনি নির্বাচনে দাঁড়ান, আমরা আপনাকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে দেব। কিন্তু ভোটের বাক্স খোলার পর দেখলাম, আমি মাত্র ৩৩ ভোট পেয়েছি। ১০টি ভোট পড়েছে “নোটা”য়।’
নির্বাচনে ভোটারদের টাকা বা নেশাজাতীয় দ্রব্য বিতরণ করেননি বলে দাবি করেন ওমপ্রকাশ। প্রচারের জন্য বড় গাড়িবহর ব্যবহার না করে নিজের আগের গাড়ি নিয়েই মানুষের কাছে গিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা যে সরাসরি ভোটে সমর্থন নিশ্চিত করে না, তা-ও স্বীকার করেন এই প্রার্থী। তাঁর ভাষায়, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক জিনিস, আর বাস্তব পরিস্থিতি অন্য রকম।’ নিজের পাওয়া ৩৩ ভোটের মধ্যে ১১টি পরিবারের সদস্যদের এবং বাকিগুলো পরিচিত ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে এসেছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনে জিতলে গ্রামের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অসহায় প্রাণীদের যত্ন নেওয়া এবং বাসিন্দাদের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতেন বলে জানান ওমপ্রকাশ। তাঁর দাবি, নিজের পরিচালিত গোশালায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ গরু রয়েছে। এ কাজে তিনি নিজের প্রায় ৩০ বিঘা জমিও দান করেছেন।
তবে নির্বাচনে পরাজয়কে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ওমপ্রকাশ। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। ভোটে হারলেও গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই ইনফ্লুয়েন্সার।

