বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এটি নিম্নচাপ ও পরে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’। তবে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টির বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা আপাতত কম। সম্ভাব্য গতিপথ হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পূর্বমধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপটি অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, লঘুচাপটি শনিবারের মধ্যে নিম্নচাপে এবং আগামী সোমবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এর গতিপথ বাংলাদেশমুখী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও সেই আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে বিচরণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর বা এরপর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় হলে নাম হবে ‘অর্ণব’
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক প্যানেলের নির্ধারিত তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে এসব নাম দেওয়া হয়।
তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাব করা, যার অর্থ সাগর। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের সক্রিয় লঘুচাপগুলোর মধ্যে যেটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, সেটির নাম হবে ‘অর্ণব’।
অর্ণবের পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘মুরাসু’। নামটি ভারতের দেওয়া। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ বলতে ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কাকে বোঝায়।
২০০০ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হচ্ছে। একই অঞ্চলে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে সেগুলোকে সহজে শনাক্ত করা এবং তথ্য আদান-প্রদানে বিভ্রান্তি এড়াতে নামকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে বঙ্গোপসাগরের বর্তমান লঘুচাপটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখতে হবে।

