বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ২:২১ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

লালমনিরহাটে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভায় প্রশাসনের বাধা, ক্ষুব্ধ সাধারণ নির্মাণ শ্রমিকরা

লালমনিরহাটে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভায় প্রশাসনের বাধা, ক্ষুব্ধ সাধারণ নির্মাণ শ্রমিকরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, মিলনায়তনের ভাড়াও পরিশোধ করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছে লিখিত আবেদনও। এরপরও অনুষ্ঠানের আগের দিন ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে সভা আয়োজন করতে নিষেধ করার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের পুলিশ প্রশাসন ও জেলা পরিষদ মিলনায়তন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের লালমনিরহাট সদর উপজেলা শাখা। সংগঠনটির দাবি, একটি অরাজনৈতিক ও শ্রমিককল্যাণমূলক সংগঠনের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে এভাবে বাধা দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও হতাশাজনক।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) লালমনিরহাটের মিশন মোড়সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে সংগঠনটি।
সংগঠনটির প্রেস নোটে বলা হয়, বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট জেলা পরিষদের পুরোনো মিলনায়তনে নবগঠিত সদর উপজেলা কমিটির পরিচিতি সভা, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে গত ১৩ অক্টোবর মিলনায়তনের ভাড়া বাবদ টাকা জমা দেওয়া হয়, যার রশিদ নম্বর ৮৫৬। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের স্থান ও সময় উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত আবেদন করা হয়েছিল।

কিন্তু সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও অনুষ্ঠানের আগের দিন পুলিশ প্রশাসন ও মিলনায়তন কর্তৃপক্ষ ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে সভা আয়োজন করা যাবে না বলে জানায় বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

এতে দূর-দূরান্ত থেকে আমন্ত্রিত অতিথি ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পাশাপাশি মঞ্চ ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় আর্থিক ক্ষতি এবং সাংগঠনিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের (রেজি. নং বি-২২০৯) সদর উপজেলা শাখার নেতাদের দাবি, সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও শ্রমিককল্যাণমূলক। নির্মাণশ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় ও অসুস্থ শ্রমিকদের সহায়তায় কাজ করে সংগঠনটি।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, “নিয়ম মেনে মিলনায়তন ভাড়া নেওয়া, টাকা জমা দেওয়া এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করার পরও কেন শেষ মুহূর্তে সভা বন্ধ করতে বলা হলো, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। প্রশাসনিক কারণের কথা বলে একটি শ্রমিককল্যাণমূলক সংগঠনের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে তা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করবেই।”

তারা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।