আফ্রিকার দেশ সুদানে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলায় ৩০৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে যাওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি বাজারে থাকা লোকজনও রয়েছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার সন্ধ্যায় সুদানের ওয়েস্ট করদোফান রাজ্যের দুটি এলাকায় ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হন। সুদানের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সুদান ওয়ার অবজারভেটরি’র কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এর পরদিন সোমবার সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিরোধপূর্ণ আবেই অঞ্চলের একটি বাজারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সুদানের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, সেনাবাহিনী এ হামলা চালিয়েছে। সূত্রটির দাবি, বাজারটি আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ধারাবাহিক এসব হামলায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সোমবার বলেন, সুদানে ড্রোন হামলায় শিশু ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে জরুরি সেবাব্যবস্থা।
২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে দেশটিতে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলমান যুদ্ধে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি দেশ সংঘাতে জড়িত উভয় পক্ষকে ড্রোন সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবেই অঞ্চলে হামলার পর সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলটি যৌথভাবে পরিচালনা করে দেশ দুটি। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা লাভ করলেও আবেইয়ের মালিকানা নিয়ে বিরোধের সমাধান হয়নি। সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দক্ষিণ সুদান।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সুদানের অভ্যন্তরীণ সংঘাত সীমান্ত পেরিয়ে বৃহত্তর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে সুদানে মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এক কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি

