বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ

বিশ্ববাজারে রুশ তেলের প্রথম ট্যাংকার, দাম বাড়ার শঙ্কা

বিশ্ববাজারে রুশ তেলের প্রথম ট্যাংকার, দাম বাড়ার শঙ্কা
তেল বিক্রির ক্ষেত্রে রাশিয়ার কোনো সমস্যা নেই। ফাইল ছবি

বিশ্ববাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার প্রথম তেলবাহী ট্যাংকার ডিকসন বন্দর ছেড়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজনৈতিক টক শো ‘সলোভিওভ লাইভ’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে নোভাক বলেন, রাশিয়ার তেল বিক্রিতে কোনো সংকট নেই। দেশটির কাছ থেকে তেল কিনতে আগ্রহী ক্রেতার সংখ্যা অনেক। ইতোমধ্যে প্রথম ট্যাংকারে তেল বোঝাই করে আর্কটিক অঞ্চলের ডিকসন বন্দর থেকে রওনা করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে একটি চুক্তির কথা জানান। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে সম্মত হয়েছে মস্কো।

তবে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, এতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থায়নের সুযোগ বাড়তে পারে।

বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে নোভাক বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে এবং এখনো তা উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বাজারে ভারসাম্য ফিরতে পারে। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে তেলের মজুত ব্যবহারের সুযোগ ক্রমেই কমে আসছে।

এদিকে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া’ পাইপলাইনের মাধ্যমে চীনে বছরে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রত্যাশা করছে রাশিয়া। সরবরাহ সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ঘনমিটারে নেওয়ার বিষয়েও চুক্তি রয়েছে বলে জানান নোভাক।

ইউরোপে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নোভাকের ভাষ্য, চারটি পাইপলাইনের মধ্যে তিনটি বিস্ফোরণ ও কথিত সন্ত্রাসী হামলার কারণে অচল হয়ে আছে। অন্য একটি পাইপলাইন অক্ষত থাকায় সেটির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব। তবে সরবরাহ পুনরায় শুরুর বিষয়টি ইউরোপীয় ক্রেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: আনাদোলু