বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

মেয়েদের বিয়ের বয়স কমাতে রাজনৈতিক নেতাদের তদবির, উদ্বেগে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

মেয়েদের বিয়ের বয়স কমাতে রাজনৈতিক নেতাদের তদবির, উদ্বেগে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সংগৃহীত

মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমানোর জন্য দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা তদবির করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগে এ ধরনের আলোচনা ওঠায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কতটা কমানো যায়, তা নিয়ে দেনদরবার করছেন। এ অবস্থানের পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে জনগণের সামনে তুলে ধরা সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, চার হাজার বছর আগের মিসর কিংবা আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিসের বাস্তবতার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা চলে না। ২০২৬ সালের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে এসেও মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হতাশাজনক।

নারীর টেকসই ক্ষমতায়নের জন্য শুধু পেশাগত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীর আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা ও অধিকারসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা প্রান্তিক কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।