বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ৭:১১ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক দিল্লিতে, যাচ্ছেন না বাংলাদেশের মন্ত্রী

বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক দিল্লিতে, যাচ্ছেন না বাংলাদেশের মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছেন বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। আগামী মঙ্গলবার ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অংশ নিচ্ছেন না। তাঁর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে যোগ দেবে।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবেন। এর আগে ১২ অক্টোবর সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরে না যাওয়ার বিষয়ে সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও অংশ নেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারত তাঁকে ওই অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, আমন্ত্রণটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।

সরকারি চিঠিতে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ৪ অক্টোবর বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো চিঠিতে ১২ ও ১৩ অক্টোবরের বৈঠকের জন্য বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নাম জানানো হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম রাখা হয়নি। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

বিমসটেক সচিবালয় ৫ অক্টোবর সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো জরুরি চিঠিতে জানায়, বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা প্রতিনিধিদলের মনোনয়ন দিয়েছে। বাকি দেশগুলোকে দ্রুত প্রতিনিধিদের নাম পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

সন্ত্রাসবাদ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্ব

দিল্লির বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। মানব পাচার, মাদক পাচার, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের পাশাপাশি সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভুটানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুংতেন দর্জি, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল কো কো ও, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, শ্রীলঙ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দনা আবেরত্নে এবং থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসাক থংস্রির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিমসটেকের সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক যৌথ কার্যকরী দলের একাদশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশসহ সাত সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই বৈঠকে প্রচলিত ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, মানব পাচার, মাদকদ্রব্যের অবৈধ বাণিজ্য, অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়।

আট বছর আগে সিদ্ধান্ত, এবার প্রথম বৈঠক

১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিমসটেকের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান এ জোটের সদস্য। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো জোটটির মূল লক্ষ্য। এর সচিবালয় ঢাকায়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ জোটটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০১৮ সালে। ওই বছরের ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত জোটের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর নেতারা নিয়মিতভাবে এ বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত হন। আইন প্রয়োগকারী, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তাঁরা অঙ্গীকার করেন।

তবে সিদ্ধান্তের পর এত দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কোনো বৈঠক হয়নি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে বিমসটেকের ২০তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনের ধারণাপত্র অনুমোদিত হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর এবার নয়াদিল্লিতে প্রথমবারের মতো বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।