ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সংসদ সদস্যরা। কর্মসূচি চলাকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে আকাশবাণী ভবন চত্বরে প্রায় আট ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি শেষে তাদের আটক করা হয়।
এর আগে দুপুরে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। পরে অনেক সংসদ সদস্যকে আটক করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা আকাশবাণী ভবন চত্বরে অবস্থান নেন।
আটকের আগে রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধী দলের প্রায় ৩০০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনে যেতে চেয়েছিলেন। এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই তারা আন্দোলন করছেন। রাহুলের এসব অভিযোগ অবশ্য বিরোধীদের রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে।
আটক নেতাদের মধ্যে কংগ্রেসের পবন খেরা, কে সি বেনুগোপাল, ইমরান প্রতাপগড়ি ও কে সুরেশও রয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের বাসে করে উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কমিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়নি। পরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ২৪০ জন সংসদ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকের আগ্রহ জানায়। কমিশনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণের বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিরোধী সংসদ সদস্যরা তা গ্রহণ করেননি বলে জানানো হয়।
‘ইন্ডিয়া’ জোট গত ২ অক্টোবর থেকে ‘জ্ঞানেশ হটাও’ আন্দোলন শুরু করে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ করে আসছে। মঙ্গলবারের নির্বাচন কমিশনমুখী পদযাত্রা ছিল সেই আন্দোলনেরই অংশ।

