বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

 

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আতিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে গলায় ফাঁসির রজ্জু ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গোকুন্ডা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে মিতু আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল।

২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আতিকুল মিতুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে মিতু তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে মিতুর মাথা ও মুখে কিল-ঘুষি মারেন। পরে ঘরের উঠানে থাকা একটি শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মিতুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই মিতু আক্তারের মৃত্যু হয়। এরপর আতিকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে মিতুর পাঁচ মাস বয়সী শিশু সন্তান আতিকা আক্তারের কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। এ সময় তারা বিছানায় মিতুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পেয়ে মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এ রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে।

তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। রায়ের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ রয়েছে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির।

আদালতের রায়ে বাদীপক্ষও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।