রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহতরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ প্রায় আটজন এ হামলায় জড়িত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের গেটে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। প্রক্টর ঘটনাস্থলে গেলে তারা অস্ত্রগুলো সরিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
পরে অস্ত্র হাতে অবস্থানরত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ভিডিও করতে এগিয়ে গেলে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধির ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। অন্য সাংবাদিকরা আহতদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকিবুল তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। তবে রাকিবুলের দাবি, তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেন।
রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে আহসান হাবীব সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এরপর শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে ছাত্রদলের ওই অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে একটি পোস্ট দেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ ও চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’
রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

