বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাস, ৭ অক্টোবর ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাস, ৭ অক্টোবর ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি
এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের একটি বিমান। ছবি: রয়টার্স

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামী ৭ অক্টোবর ঢাকায় সই হতে যাচ্ছে। এ চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন বোয়িংনির্ভর থাকা বিমানের বহরে নতুন করে যুক্ত হবে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ।

রোববার (৪ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

চুক্তিতে এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করবেন।

চুক্তির আওতায় চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর মধ্যে এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ১০টি এয়ারবাস কিনবে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হবে।’

মন্ত্রী জানান, উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে এবং ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে। তবে ১০টি এয়ারবাস কেনার মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

বিমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চারটি এ৩৫০-৯০০ দিয়ে ভবিষ্যতে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা করা হবে। আর ছয়টি এ৩২১নিও ব্যবহার করা হবে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে। এতে যেসব রুটে বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন নেই, সেখানে তুলনামূলক কম ধারণক্ষমতার উড়োজাহাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িং ও এয়ারবাস দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ পরিচালনা করবে। বর্তমানে বিমানের জেট বহরের বড় অংশই বোয়িংয়ের তৈরি।

বিমানের বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় এর আগে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮। পরে এ পরিকল্পনায় আরও ১১টি বোয়িং যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। ফলে পরিকল্পিত বোয়িং উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টি। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।

নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা পূরণে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান।

আগামী ৭ অক্টোবর এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি সই হলে বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে বোয়িংয়ের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ারবাসও যুক্ত হবে।