বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ

গুলশানের বাসার সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রিডে ১২০০ ইউনিট: মীর শাহে আলম

গুলশানের বাসার সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রিডে ১২০০ ইউনিট: মীর শাহে আলম

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগের পাশাপাশি নিজ বাসভবনেও এর ব্যবহার শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর গুলশানে তাঁর বাসভবনের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১ হাজার ইউনিট নিজে ব্যবহার এবং ১ হাজার ২০০ ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত তিন দিনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এখন সমবায় ভবনসহ জাতীয় ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে সংশ্লিষ্ট ভবনের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ব্যবসা হিসেবেও দেখার কথা বলেন তিনি।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা যাতে না হয়, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইউএনওদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে।

ইউএনওদের জন্য ঐচ্ছিক তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এ ধরনের তহবিল থাকলে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অর্থের জোগান দিতে না পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব আয় থেকে এ অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতি নিয়ে সমাধানে যাওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মাঠপর্যায়ে ইউএনওদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন কার্ড ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন তাঁরা সরাসরি তদারকি করছেন। প্রতিবছর ডিসি সম্মেলনের মতো ইউএনওদের বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করা হলে উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রয়োজনীয় দাবিগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

বিএনপি সরকার জনগণের সরকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বলেও মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, আগের সময়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। বর্তমান সরকার কাউকে রাতের ভোট বা ডামি নির্বাচনের মতো কোনো কাজে বাধ্য করবে না।

রাজনৈতিক বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মিরপুরের ঘটনায় উত্তরের কমিটি বাতিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমপির ব্যক্তিগত দায় সরকার নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়ানো এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।