বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: অক্টোবর ৪, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

মাইন বিস্ফোরণে ক্ষমা চায়নি উত্তর কোরিয়া, পাল্টা ছুড়ল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

মাইন বিস্ফোরণে ক্ষমা চায়নি উত্তর কোরিয়া, পাল্টা ছুড়ল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যেই শনিবার (৩ অক্টোবর) দেশটির পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ব সাগরের দিকে ছোড়া হয় এবং ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এখনও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এর আগে দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের যৌথ তদন্তে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণেই ওই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে পিয়ংইয়ং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিএমজেডে টহল দেওয়ার একটি পথ পরিষ্কারের সময় মাইন বিস্ফোরণে তিন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে মাইন পোঁতা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানায় সিউল।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাং শিন-চুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া মাইনগুলো পুঁতে থাকতে পারে।

১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে দুই কোরিয়ার মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রেখেছে প্রায় চার কিলোমিটার প্রশস্ত ডিএমজেড। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করার পর সীমান্ত বিচ্ছিন্ন করার নানা পদক্ষেপ নেয় পিয়ংইয়ং। এর মধ্যে সীমান্ত এলাকায় মাইন পোঁতা ও ট্যাংক চলাচল ঠেকাতে প্রতিবন্ধক নির্মাণের বিষয়ও রয়েছে।

তবে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়া দায় অস্বীকার করেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করছে এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের জবাবে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। এএফপিকে সাবেক ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন বলেন, সিউল উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও পিয়ংইয়ংয়ের পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

সূত্র: এএফপি