নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যদিনের খাবারে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী আমিষের অন্যতম উৎস ডিম। মাছ-মাংসের বাড়তি দামের কারণে অনেক পরিবারের ভরসাও ছিল এই খাবারটি। তবে এক বছরের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই ভরসাতেও এখন চাপ পড়েছে।
ঢাকার বাজারে গত এক বছরে ফার্মের লাল বা বাদামি ডিমের ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর যে ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩৫ টাকা, চলতি বছরের একই সময়ে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের পুষ্টির এই সহজ উৎসটিও অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। প্রতি কেজি শিমের দাম ২০০ টাকা। বিপরীতে সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, ৩০ টাকা কেজি। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দামি সবজির তালিকায় লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। বরবটি, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা মরিচ এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও রয়েছে আগের উচ্চমূল্যে। প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ টাকা এবং চারটি ডিম ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতা হাসান বলেন, ‘এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।’
মাছের বাজারেও খুব একটা পরিবর্তন নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।
মাছ বিক্রেতা আবির ইসলাম বলেন, ‘মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজ তেলাপিয়া ২৫০ টাকা আর পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। মাছের দাম সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। মাছ বেশি এলে দাম কমে, আবার ক্রেতা বেশি হলে দাম বেড়ে যায়।’
একই সঙ্গে বাজারে মাছের আকার, জীবিত বা মৃত অবস্থাসহ বিভিন্ন কারণে দামের পার্থক্য দেখা যায়। বাজারভেদে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি হতে পারে।

