বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

আইজিপির নির্দেশ: অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

আইজিপির নির্দেশ: অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, দলীয় পরিচয়, প্রভাব কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া যাবে না। মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।

আগস্ট মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ, মামলা, তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

সভায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় যেন বিবেচনায় না আসে, সে বিষয়েও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাং নিয়েও সভায় বিশেষ আলোচনা হয়। অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান কিশোর গ্যাং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এসব চক্রের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিও পুনর্ব্যক্ত করেন আইজিপি। মাদক ব্যবসা ও বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়। পূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আইজিপি।

এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে পুলিশের জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা যথাযথভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় আগস্ট মাসের ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যা, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি মুলতবি গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সাজার হার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।