বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ

ফতুল্লায় আর কোনও কর্মীর গায়ে হাত দিলে থানার ইট খুলে নেবো: ওসির কক্ষের সামনে এনসিপি নেতা

ফতুল্লায় আর কোনও কর্মীর গায়ে হাত দিলে থানার ইট খুলে নেবো: ওসির কক্ষের সামনে এনসিপি নেতা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে থানার ‘ইট খুলে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার। এ-সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে ওই হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় যুবাইর সরদারকে। ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার আর একটা কর্মীর গায়ে হাত তুললে লাশের বদলে লাশ নেবো। আমার আর একজন নেতাকর্মীর গায়ের রক্ত পড়লে থানার ইট পর্যন্ত খুলে নেবো।’

দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে ফতুল্লার বক্তাবলী বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন এনসিপির জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম। হামলার খবর পেয়ে দলটির নেতাকর্মীরা ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনও থানায় যান।

এনসিপির জেলা প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সম্পাদক সোনিয়া আক্তার লুবনা অভিযোগ করেন, বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ নিয়ে ওই দিন বিকেলে দলীয় নেতাকর্মীরা বৈঠক করেন। সেখানে প্রতিবাদ জানানোর পর এর জের ধরে হামলা চালানো হয়। তার দাবি, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নির্দেশে তার ছোট ভাই ইয়াসিন ও অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাওহীদুলের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান বাদী হয়ে হালিম আজাদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন।

তবে মামলা হওয়ার পরও কাউকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে দলটির নেতাকর্মীরা থানায় অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ বক্তব্যের বিষয়ে যুবাইর সরদারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, থানায় এসে এনসিপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দেওয়ার সময় তিনি তার কক্ষে ছিলেন। তবে এমন হুঁশিয়ারি তিনি শুনেছেন কি না, তা বলতে পারেননি। তিনি বলেন, কেউ এমন বক্তব্য দিয়ে থাকলে তা ঠিক হয়নি। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা থানায় গিয়েছিলেন। হামলার ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।