বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুসিচের পদত্যাগ

শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুসিচের পদত্যাগ

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুসিচ। তার পদত্যাগের ফলে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ খুলে গেছে। একই সঙ্গে আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগের ঘোষণা দেন ভুসিচ। তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছর। তবে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করায় সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই তার। পদত্যাগের পরও রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না তিনি। আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিজের দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন ভুসিচ।

পদত্যাগের আগে রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ভুসিচ। সেখানে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকালে তার সরকার সার্বিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

ভুসিচ গত জুনেই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের দিন নির্ধারণ করেন। তার পদত্যাগের পর পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

ভুসিচের পদত্যাগের পেছনে দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে আন্দোলন গড়ে তোলে। পরে শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নোভি সাদের রেলস্টেশন দুর্ঘটনা ভুসিচের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে অনিয়ম ও জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়গুলো সামনে এনেছে। সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পদত্যাগ এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের পরও বিক্ষোভ পুরোপুরি থামেনি। পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও ওঠে। এসব অভিযোগ অবশ্য সরকার অস্বীকার করেছে।

আগামী ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভুসিচের এসএনএস ও তার মিত্রদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থি বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’।

পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর বছরের শেষ নাগাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে সার্বিয়ার ভোটারদের পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, দুই ধরনের ভোটের মুখোমুখি হতে হবে।

পদত্যাগের আগে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন ভুসিচ। তাদের মধ্যে ২৩ জন বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তি রয়েছেন।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ভুসিচ। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধরে রেখেছেন।