বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ

আমদানি কমায় এলপিজির সংকট, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা ছাড়াল

আমদানি কমায় এলপিজির সংকট, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা ছাড়াল

দেশে এলপিজি আমদানি এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির সুযোগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে খুচরা বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

বিইআরসি ও আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।

এর মধ্যেই গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পেয়ে ভোক্তাদের বাজারে গুনতে হচ্ছে দুই হাজার টাকার বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। বাংলাদেশের এলপিজির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কার্গো পাওয়া। আগে একটি নৌপথ বন্ধ থাকলেও বিকল্প পথে পণ্য আনার সুযোগ ছিল। এখন সেই সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

আমদানিকারকদের দাবি, বিশ্ববাজারে এলপিজির বাড়তি প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের ভাষ্য, কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে উঠেছে। এ অবস্থায় বিইআরসির নির্ধারিত দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে লোকসান এড়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী জানান, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে উৎপাদক পর্যায়ে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো দেশে না পৌঁছায় সেপ্টেম্বরে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট নিরসনে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা অব্যাহত থাকলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজি সরবরাহে সংকট থাকার আশঙ্কা রয়েছে।