বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ

নামফলকে নিজের নাম দেখে ক্ষুব্ধ হাসনাত, উদ্বোধন না করেই চলে গেলেন

নামফলকে নিজের নাম দেখে ক্ষুব্ধ হাসনাত, উদ্বোধন না করেই চলে গেলেন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে নামফলকে নিজের নাম দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ একটি উচ্চবিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নামফলকে নিজের নাম দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবীদ্বার উপজেলার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধন ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবন উদ্বোধনের আগে নামফলকের পর্দা সরানো হলে সেখানে হাসনাত আবদুল্লাহর নাম দেখতে পান তিনি। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আয়োজকদের বলেন, জনগণের করের অর্থে নির্মিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনায় ব্যক্তির নামে নামফলক দেওয়ার সংস্কৃতিকে তিনি সমর্থন করেন না।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাদের আত্মপ্রচারের জন্য স্থাপনার নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিত। পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির মতো ব্যক্তিপূজা ও আত্মপ্রচারের চর্চা নতুন বাংলাদেশে দেখতে চান না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের অর্থেই উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হয়। তাই কোনো স্থাপনার নামফলকে ব্যক্তিবিশেষের নামের পরিবর্তে দেশের নাম বা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক তথ্য থাকা উচিত।

এ সময় নিজের নির্বাচনী এলাকায় ভবিষ্যতে কোনো উন্নয়নকাজ বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনার উদ্বোধনী ফলকে তাঁর নাম ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। এরপর ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ বলেন, দ্রুত নামফলকটি পরিবর্তন করে নতুন করে স্থাপন করা হবে।

এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ঘটনাটিকে ব্যক্তিপূজা ও চাটুকারিতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আবার সমালোচকদের কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবে মন্তব্য করেছেন।