বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ

অক্টোবর-নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি সফরের প্রস্তুতি তারেক রহমানের

অক্টোবর-নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি সফরের প্রস্তুতি তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি চলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এর মধ্যে জাপান ও সৌদি আরবে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আর তুরস্কে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন (কপ৩১) উপলক্ষে সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।

টোকিও, আঙ্কারা ও রিয়াদের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনটি সফরকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপান সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নভেম্বরের শুরুতে তুরস্ক এবং মাসের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাপান সফরে বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানি গুরুত্ব পেতে পারে

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে টোকিও সফরের কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দুই দেশের কর্মকর্তারা তিন থেকে চার দিনের সফর আয়োজন নিয়ে আলোচনা করছেন।

সম্ভাব্য এই সফরে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জাপানে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফর করেছিলেন। ওই সফরে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। জাপানে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।

কপ৩১-এ জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা

নভেম্বরের শুরুতে তুরস্ক সফরে গিয়ে কপ৩১-এ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তুরস্কের আনাতোলিয়ায় কপ৩১ সম্মেলন ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কপ৩১ গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, আগের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।

সৌদি আরবে জ্বালানি ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরবের রিয়াদ সফরের প্রস্তুতিও চলছে। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে এই সফর হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্ভাব্য সফরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানি, বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানির মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। একই সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির বাইরে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের আগ্রহও দেখিয়েছে সৌদি আরব।

তিনটি সফরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কর্মকর্তাদের পর্যায়ে আলোচনা চললেও এখনো সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।