পেটে তীব্র ক্ষুধা, অথচ খাবার কিনে খাওয়ার মতো সঙ্গে ছিল না কোনো অর্থ। এমন অবস্থায় এক পথচারীর হাতে খাবারের প্যাকেট দেখে ভাতের প্যাকেট ভেবে ছিনিয়ে নেন নুর মোহাম্মদ নামের এক যুবক। প্যাকেট খুলে মিষ্টি দেখতে পেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় সেখান থেকেই কয়েকটি মুখে তুলে নেন তিনি। এ ঘটনায় উপস্থিত লোকজনের মারধরের শিকার হয়ে পুলিশে সোপর্দ হন ওই যুবক। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে বিচারক তাকে ৫০ টাকা জরিমানা করেন। পরে সহৃদয় এক ব্যক্তির সহায়তায় সেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে মুক্তি পান তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নুর মোহাম্মদকে যশোর সদর আমলী আদালতের বিচারক সঞ্জয় কুমারের এজলাসে হাজির করা হলে আদালত এ অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী নুর মোহাম্মদের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তিনি যশোরের ঝিকরগাছার একটি কাঁচামালের আড়তে শ্রমিকের কাজ করেন।
নুর মোহাম্মদ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাজ শেষ করে তিনি যশোর রেলস্টেশনে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকায় প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগে, কিন্তু পকেটে কোনো টাকা না থাকায় খাবার কেনার উপায় ছিল না। এ সময় স্টেশনে এক ব্যক্তিকে খাবারের প্যাকেট হাতে নিয়ে যেতে দেখে সেটিকে ভাতের প্যাকেট ভেবে তিনি ছিনিয়ে নেন। প্যাকেট খোলার পর ভেতরে মিষ্টি দেখতে পেলেও ক্ষুধার তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে কয়েকটি খেয়ে ফেলেন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরদিন পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে শুনানি শেষে বিচারক ৫০ টাকা জরিমানা ধার্য করেন।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) উপপরিদর্শক (এসআই) হেলালুজ্জামান জানান, কাঠগড়ায় নুর মোহাম্মদের অসহায়ত্ব ও ক্ষুধার করুণ বর্ণনা শুনে উপস্থিত এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাকে ১০০ টাকা দেন। সেই টাকা থেকে আদালতের ৫০ টাকা জরিমানা পরিশোধ করে আইনি মুক্তি পান তিনি। বাকি ৫০ টাকা পকেটে নিয়ে তিনি বাড়ির পথে রওনা হন।

