বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মাননা

নারায়ণগঞ্জে শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মাননা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পেশাগত দক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধের রহস্য উদঘাটনে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেডের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল ১০টায় পুলিশ লাইনস্ ড্রিল শেডে মাসিক কল্যাণ সভা এবং দুপুর ১২টায় অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সবগুলো সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান।

কল্যাণ সভায় জেলার বিভিন্ন থানার প্রতিনিধিরা পেশাগত সমস্যা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য শুনে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

বন্দর থানা এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মী বুলবুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও ১৪ মামলার আসামি শেখ সিফাতসহ তাঁর বাহিনীর ১১ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিন কর্মকর্তাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুরস্কৃত কর্মকর্তারা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) দীপংকর ঘোষ এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জামাল উদ্দিন।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্যও কয়েকজন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়। শ্রেষ্ঠ এসআই (নিঃ) হয়েছেন মোঃ রমজান হোসেন। তিনি ৫৬টি পরোয়ানা তামিল করেছেন। শ্রেষ্ঠ এএসআই (নিঃ) আনোয়ার হোসেন ৩৮টি পরোয়ানা নিষ্পত্তি ও মাদক উদ্ধারে অবদান রাখেন।

শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন এসআই মোঃ আবু সাদেক। তিনি ৭৬ কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেন।

শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধার ও ক্লুলেস মামলা উদঘাটনকারী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার। তিনি অস্ত্র ও ডাকাতির হায়েস গাড়ি উদ্ধার করেন। ক্লুলেস মামলা উদঘাটনকারী হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম। তিনি ৫৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন অপহৃত ব্যক্তি ও ডাকাতির স্বর্ণ উদ্ধার করেন।

শ্রেষ্ঠ ডিবি কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন এসআই (নিঃ) মিঠুন কুমার দত্ত। তিনি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেন।

এ ছাড়া অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করায় ডিএসবি ও এসএএফ-এর এসআই (নিঃ) মোঃ ইজাহার আলী, ওয়াচার কনস্টেবল মোঃ মোখলেছুর রহমান, ওয়াচার কনস্টেবল মোঃ ইসমাইল খান, কনস্টেবল মোঃ সাজ্জাদ বিন ইউসুফ এবং কনস্টেবল মামুন অর রশিদকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জেলার সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। পরোয়ানা তামিল কার্যক্রম আরও জোরদারের পাশাপাশি প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় সিআইডি নারায়ণগঞ্জের প্রধান মোঃ জাকির হোসেন, পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম), ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪-এর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।