হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন একটি ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ড্রোনটির উন্নত প্রযুক্তি নিজেদের প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে।
মোহেবি দাবি করেন, ওই সংঘাতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত কিছু উন্নত প্রযুক্তি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ইরানের নতুন ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, আটক করা মার্কিন ডুবো যানে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। এসব প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, তা বিশ্লেষণ করে শিগগিরই রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে ডুবো যানটির প্রযুক্তি ও কাঠামো সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি প্রাপ্ত জ্ঞান নিজেদের প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে ইরান।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান আটক করা হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে এটিকে ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান, যা নজরদারি, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ এবং পানির নিচের অবকাঠামো পর্যবেক্ষণের মতো কাজে ব্যবহার করা যায়।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ড্রোনটি আটকের ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের দাবি, এটি পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ একটি মডেল এবং এতে শ্রেণিবদ্ধ বা গোপন সামরিক প্রযুক্তি ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ড্রোনটির কিছু যান্ত্রিক প্রযুক্তি পরীক্ষা করে ইরান উপকৃত হতে পারে, তবে এর সফটওয়্যার ও সুরক্ষিত প্রযুক্তি পুরোপুরি অনুকরণ করা কঠিন হতে পারে।

