নেত্রকোনার এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হকের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। গত ১১ ও ১৭ আগস্টের সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিয়ে শহরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, সিসিটিভির লাইভ মনিটরিংয়ে ওই ঘটনার দৃশ্য তাদের কয়েকজনের নজরে আসে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৭ আগস্ট সকাল ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে বোরকা পরা এক নারীর সঙ্গে টেবিলের দুই পাশে বসে কথা বলছেন মাওলানা এহসানুল হক। কয়েক মিনিট পর তাকে ওই নারীর চেয়ারের পেছনে যেতে এবং পরবর্তী সময়ে তার কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজে তাদের মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার দৃশ্যও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০ আগস্ট দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটের আরেকটি ফুটেজেও ওই নারীর সঙ্গে শিক্ষককে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
মাদ্রাসার প্রভাষক নাজনিন নাহার বলেন, ছুটির পর অফিস কক্ষের মনিটরে তিনি এক নারী ও পুরুষের কিছু আপত্তিকর আচরণ দেখতে পান। পরে বিষয়টি সহকর্মী মুবাশশেরা ম্যাডামকে দেখান।
শিক্ষক মেহেবুবে আলম জেবিন বলেন, সিসিটিভিতে যে আচরণ দেখা গেছে, তা একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাওলানা এহসানুল হক দাবি করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে শিক্ষক মো. হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, এক সহকর্মীর অনুরোধে তিনি বিষয়টি দেখার চেষ্টা করেন এবং পরে অধ্যক্ষকে জানান। তার দাবি, বিষয়টি জানানোয় এখন উল্টো তাকেই অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ ও বহিষ্কারের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হলেও অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ফুটেজ যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

