বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ

এয়ারবাসের জন্য ‘সমান সুযোগ’ চাইলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত

এয়ারবাসের জন্য ‘সমান সুযোগ’ চাইলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় এয়ারবাসকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। তিনি জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, কয়েক বছর আগে কারিগরি মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়। বিমানের বহরে এয়ারবাস যুক্ত হলে তা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বিভিন্ন দিক থেকে সুবিধাজনক হতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক বড় এয়ারলাইন্সের বহরে এয়ারবাস ও বোয়িং দুই ধরনের উড়োজাহাজই রয়েছে। এর ফলে একটি নির্মাতার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় না। পাশাপাশি দুই কোম্পানির উড়োজাহাজের সক্ষমতা ও সুবিধা তুলনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে।

এয়ারবাসের সক্ষমতার উদাহরণ দিয়ে জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, এয়ারবাসের এমন একটি মডেল রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম। তার ভাষ্য, বর্তমানে অন্য কোনো উড়োজাহাজ এভাবে সক্ষম নয়। কারিগরি ও যৌক্তিক বিবেচনাতেই বিমান এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয় জড়িত নয়।

বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের সম্ভাব্য আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোয়িং কিছু উড়োজাহাজ বিক্রির সক্ষমতা দেখিয়েছে, যেগুলোর সরবরাহ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের দিকে হতে পারে। এটি তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখনও এয়ারবাসের বিষয়ে আগ্রহী এবং আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের বড় বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কোনো ভুল বা ত্রুটির কারণে যেন পুরো প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে না হয়, সেজন্য প্রতিটি বিষয় সতর্কতার সঙ্গে চূড়ান্ত করা দরকার।

তিনি বলেন, এতে কিছুটা সময় লাগলেও আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

তবে এয়ারবাসের সঙ্গে কারিগরি আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব তথ্য প্রকাশের অনুমতি তার নেই। তাছাড়া এয়ারবাসের পক্ষ থেকে তিনি সরাসরি চুক্তি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত নন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি ফরাসি বা যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি নয়। এটি এয়ারবাস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তি, যা উপযুক্ত সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি এয়ারবাসের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েসও বক্তব্য দেন।