বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ

যশোর উপশহর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী তৎপরতা

যশোর উপশহর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী তৎপরতা

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর সদর উপজেলার ৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়নে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা। গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী আবহ তৈরি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের (বি-ব্লক) সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন তরুণ সমাজকর্মী বিল্লাল হোসেন রুবেল।
ইতোমধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার সমর্থনে ব্যানার-পোস্টার দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রচারণা। পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এলাকার সমস্যা, নাগরিক সেবা ও সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন তিনি।
বিল্লাল হোসেন রুবেলের ভাষ্য, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নকে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার মূল লক্ষ্য হলো ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করা। একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে চাই। বিশেষ করে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে চাই।”
তিনি বলেন, “আমি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের সেবক হতে চাই। এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই হবে আমার অগ্রাধিকার। নির্বাচিত হলে দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য কাজ করতে চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তরুণ প্রার্থী হিসেবে বিল্লাল হোসেন রুবেলকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তার সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়দের একটি অংশ। তবে এসব মতামত ব্যক্তিগত এবং পুরো ওয়ার্ডের ভোটারদের সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বিল্লালকে আমরা এলাকার ছেলে হিসেবেই চিনি। মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহও তার মধ্যে আছে। এলাকার মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করেন—এ বিষয়টি আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।”
আরেক ভোটারের ভাষ্য, “বিল্লাল তরুণ এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশে চলেন। সামাজিক কাজের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।”
এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতির পাশাপাশি এলাকার বাস্তব সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনাও ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সড়ক, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পরিবেশ এবং তরুণদের সামাজিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়গুলো নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে ‘উপশহর বি-ব্লক কমিউনিটি’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশের সময় বিল্লাল হোসেন রুবেলকে আহ্বায়ক করা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সামাজিক উন্নয়ন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, রক্তদান এবং অসহায় মানুষের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়েছিল। এর আগে ও পরেও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।
সচেতন কয়েকজন নাগরিকের মতে, নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নানা প্রতিশ্রুতি সামনে আসলেও ভোটাররা শেষ পর্যন্ত এলাকার বাস্তব সমস্যা সমাধানে কে কতটা কার্যকর পরিকল্পনা দিতে পারেন, জনগণের সঙ্গে কতটা যোগাযোগ রাখেন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর কতটা জবাবদিহিতার মধ্যে থাকেন—এসব বিষয় বিবেচনা করতে পারেন।
এদিকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিল্লাল হোসেন রুবেলের পাশাপাশি আরও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়লে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ফলে প্রার্থীদের প্রচারণা, গণসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিল্লাল হোসেন রুবেল তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বি-ব্লকের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেছেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ২ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এবং ভোটারদের মনোভাব ততই স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।