বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ

কাঠগড়ায় মাথা নিচু করে ছিলেন গাজী নজরুল, কাঁদছিলেন প্রথম স্ত্রী

কাঠগড়ায় মাথা নিচু করে ছিলেন গাজী নজরুল, কাঁদছিলেন প্রথম স্ত্রী

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে (৬৫) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় শুনানি শেষে গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে আদালতের আদেশ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে দুপুর ২টা ২২ মিনিটে পুলিশের একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে বিকেল ৩টা ৬ মিনিটে তাদের পঞ্চম তলার ৮ নম্বর আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। এ সময় দুজনের হাতে হাতকড়া না থাকলেও তাদের পরনে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট।

এজলাসে নেওয়ার পর বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে তাদের হেলমেট ও জ্যাকেট খুলে দেওয়া হয়। দুই মিনিট পর বিচারক এজলাসে আসেন এবং ৩টা ১৫ মিনিটে শুনানি শুরু হয়।

শুনানির শুরুতে আসামিদের নাম ঘোষণা করা হলে গাজী নজরুল মাথা নিচু করে থাকেন। তার পেছনে থাকা মাকছুদা ইসলামকে কাঁদতে দেখা যায়। শুনানির বেশির ভাগ সময় সংসদ সদস্য মাথা নিচু করে ছিলেন। মাকছুদাও ছিলেন নীরব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার দুজনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, মরিয়ম খাতুন আত্মহত্যার সময় আসামিরা একই বাসায় ছিলেন। আত্মহত্যার ঘটনায় তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ভূমিকা কিংবা প্ররোচনা ছিল কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতে দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম চারবারের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ও তার স্ত্রী বয়স্ক এবং সম্মানিত ব্যক্তি। ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষ্য, নজরুল ইসলাম দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে ভালোবাসতেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে তিনি সহযোগিতা করবেন বলেও আইনজীবী দাবি করেন।

রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, বিয়ের পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মরিয়মের রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটে প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পেছনের বিষয়গুলো জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন পিপি।

শুনানির একপর্যায়ে পিপি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরলে বিচারক তাকে মামলার মূল বিষয়েই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ সময় গাজী নজরুল কিছুক্ষণ মাথা তুলে আইনজীবীর দিকে তাকান। পরে আবার মাথা নিচু করেন এবং স্ত্রীকে কান্না থামাতে বলেন।

দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের আদেশের পর কাঠগড়া থেকে নামার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগগুলোকে মিথ্যা দাবি করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন, সেটিও তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

পরে বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে দুজনকে আবার হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন নজরুল। পরে মাসুম বিল্লাহ তার শ্যালিকাকে সঙ্গে নিয়ে ফ্ল্যাটে গিয়ে একটি কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তারা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে।

পরিবারের অভিযোগ, গত জুনে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ের পর থেকেই ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। এ অভিযোগে রোববার গভীর রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের পাশাপাশি নজরুলের সাবেক গাড়িচালক এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ওবায়দুর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।