বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ৪:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

আটা-ময়দার দাম বাড়ল, চড়া মুরগি-ডিম-মাছের বাজার

আটা-ময়দার দাম বাড়ল, চড়া মুরগি-ডিম-মাছের বাজার

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও মোড়কজাত উভয় ধরনের ময়দার দাম বেড়েছে, পাশাপাশি খোলা আটার দামও ঊর্ধ্বমুখী। পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

আটা-ময়দার পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও বিভিন্ন ধরনের মাছও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ব্যবসায়ীদের দাবি, উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকছে। ফলে এসব পণ্যের দামও কমছে না। তবে সবজির বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদর অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা করে।

তবে খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে আরও বেশি। বিক্রেতাদের হিসাবে, এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর তিনটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও একই আটা ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খোলা ময়দার কেজি এখন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, যা মাসখানেক আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই কেজির মোড়কজাত ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক মাস আগে মোড়কজাত ময়দার কেজি ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদিদোকানি হুমায়ুন কবীর বলেন, আগে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতেন। গত সপ্তাহে একই বস্তার দাম বেড়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে। পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে আটা-ময়দাসহ কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে গত শনিবার বানরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেন ব্যবসায়ীরা। পরে মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যয় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রুটি ও বিস্কুটসহ বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মত হন ব্যবসায়ীরা।

কমছে না মুরগি-ডিমের দাম

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও বেশ চড়া। বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেড় মাস আগের তুলনায় দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেশি। এর আগে অবশ্য ব্রয়লার মুরগি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়েছে।

ফার্মের বাদামি রঙের ডিমের এক ডজনের দাম বর্তমানে ১৫০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন মিলছে প্রায় ১৪০ টাকায়। দেড় মাস আগেও ডিমের দাম প্রায় একই ছিল।

এ ছাড়া সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড বা কালারবার্ড সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত এক থেকে দুই সপ্তাহে এসব মুরগির দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

বিক্রেতারা বলছেন, সাধারণত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে মুরগির দাম ওঠানামা করে। তবে এবার প্রায় দেড় মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম একই পর্যায়ে রয়েছে। গত কয়েক মাসে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক খামারে ডিম উৎপাদন এবং ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। এতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দাম কমছে না।

চড়া দামে মাছও

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও পাবদাসহ বিভিন্ন মাছের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।

বাজারে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা এবং কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের পাঙাশের কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে এসব পণ্যের তুলনায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম আগের মতোই মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।