বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক-আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক-আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী।

বৈঠকে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে বলা হয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব থাকবে। তবে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণে জোর

বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কর্মী পাঠানোর কারণে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই ও সত্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়।

উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

এ ছাড়া দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে জানাতে ‘সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান’ পরিচালনার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যালোচনা

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নেওয়া উদ্যোগ ও অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় আগামী অক্টোবর মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করে কমিটি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগ দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।