ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে একমত হয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে কমিশন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া সবাই সম্মতি জানিয়েছেন।
নির্বাচন শুরুর সম্ভাব্য সময় হিসেবে কমিশনের পক্ষ থেকে আগে যে সময়ের কথা বলা হয়েছিল, সেটি চূড়ান্ত নয় বলেও জানান তিনি। নভেম্বর থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন দিক কমিশন সভায় পর্যালোচনা করা হবে। এরপর নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংসদ নির্বাচনের মতোই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদেরও অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।

