বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জে আট মাসে ৮ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত

কিশোরগঞ্জে আট মাসে ৮ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত
প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে আটজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া সবাই পুরুষ এবং তাঁদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এ নিয়ে গত ছয় বছর আট মাসে জেলায় এইচআইভি শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।

প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি শনাক্তকরণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সালের আগপর্যন্ত কিশোরগঞ্জে কারও শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপর গত ছয় বছর আট মাসে জেলায় অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়। তাঁদের বেশির ভাগই যানবাহনের চালক, হকার ও নেশায় আসক্ত ব্যক্তি।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২২ জন বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকার এবং তিনজন কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে শনাক্ত আটজনের মধ্যে পাঁচজন ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকার এবং তিনজন কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকার।

বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি জানিয়েছে, শনাক্ত ব্যক্তিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ২৫ জনের মধ্যে দুজন বর্তমানে চিকিৎসার আওতায় নেই। তাঁরা প্রবাসে চলে গেছেন বলে পরে জানা গেছে। অন্যরা নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) নিচ্ছেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব নেওয়া সাইদুর রহমান জেলার এইচআইভি পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কর্মসূচি ও পরীক্ষা বাড়ানো প্রয়োজন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলেও জানান তিনি।

বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্ত আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ওই প্রতিবেদনে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। প্রতিবেদনটির মাধ্যমেই কিশোরগঞ্জে এইচআইভি শনাক্তের তথ্য সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি নিরাপদ জীবনযাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১ হাজার ৮৯১ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়। একই সময়ে এইডসে আক্রান্ত হয়ে ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।