মোহাম্মদ আসাদ:
জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন ওরফে কফিল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউনিয়নের গান্দাইল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে দেশের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন কফিল মিয়া। দীর্ঘ ওই বক্তব্যে তিনি রাজনীতিতে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলীয় প্রভাব খাটানো এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তোলেন।
ফেসবুক লাইভে কফিল মিয়া বলেন, বর্তমানে গরিব মানুষের কল্যাণের রাজনীতির পরিবর্তে মানুষের পকেট ভরার রাজনীতি চলছে। যারা একসময় ভাত খেতে পারতেন না, তারা এখন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার মতে, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত গরিব মানুষের ভালোভাবে খাওয়া, থাকা এবং সুন্দরভাবে জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করা।
রাজনীতিতে ব্যক্তিগত রেষারেষি ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি করার কর্মকাণ্ডকে প্রকৃত রাজনীতি বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে কফিল মিয়া কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি দিগপাইত ইউনিয়নের এক নেতার ভাগনে অন্তর তাকে মারধর করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনও ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি দাবি করে কফিল মিয়া বলেন, চাঁদাবাজি এখনো হচ্ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তা প্রকাশ্যে নয়। চাঁদা না দিলে পরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দলের দীর্ঘদিনের কর্মী হিসেবে বক্তব্যে কফিল মিয়া দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে বিভিন্ন অভিযোগ ও অনুরোধ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দলের বড় বড় এমপি-মন্ত্রী নয়, বরং কিছু স্থানীয় নেতার কর্মকাণ্ড দলের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
তার অভিযোগ, যাদের অনেকের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, তারাও বর্তমানে বড় বড় পদে রয়েছেন। এসব কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে দলের কয়েকজন নেতার কাছে ক্ষমা চান কফিল মিয়া। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কফিল উদ্দিন দিগপাইত ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ইউনিয়নের গান্দাইল গ্রামের বাসিন্দা।
জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস সাকিব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

