জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে নিউইয়র্কে প্রবেশের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুই ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করা’ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিতে প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অবশ্য মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানোর অধিকার ফিলিস্তিনের রয়েছে। আগের ভিসা নিষেধাজ্ঞার সময় আব্বাসের এক প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী, বিদেশি কূটনীতিকদের নিউইয়র্কে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে অতীতেও ওয়াশিংটন কিছু কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত বছর ভিসা না পাওয়ায় সশরীরে জাতিসংঘ অধিবেশনে উপস্থিত হতে পারেননি মাহমুদ আব্বাস। পরিবর্তে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বক্তব্য দেন। চলতি বছরের অধিবেশনেও তিনি একইভাবে বক্তব্য দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেবে।
বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি হলেও জনবহুল এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব হামলায় নতুন করে হতাহত ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবারের হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু এবং হামাসের একজন কমান্ডার রয়েছেন।
মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস জানিয়েছে, উত্তর গাজার জাবালিয়ায় তাদের সহায়তাপ্রাপ্ত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক রোগী নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তাদের জানা নেই।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে সেখানে ৭৩ হাজার ৭৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি

