বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ

র‍্যাবের স্থলে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু এসআরবির

র‍্যাবের স্থলে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু এসআরবির
ছবি: এআই

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বুধবার থেকে নতুন নাম ও কাঠামোয় বাহিনীটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এর এক দিন আগে মঙ্গলবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে র‍্যাবের কার্যক্রম নতুন বাহিনীর নামে পরিচালনার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। বুধবার থেকে এসআরবির কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাহিনীটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ।

২০০৪ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করা র‍্যাব প্রায় সাড়ে ২২ বছর ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।

ধীরে ধীরে বদলাবে পোশাক ও সরঞ্জাম

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসআরবির নিজস্ব পোশাক, লোগো, সদস্যদের ব্যাচ, যানবাহনের রংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় নির্ধারণের কাজ চলছে। এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত র‍্যাবের বিদ্যমান সরঞ্জাম ও অবকাঠামো ব্যবহার করেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, নতুন নামে কার্যক্রম শুরু হলেও আনুষঙ্গিক পরিবর্তনগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

র‍্যাবের জনবল-সম্পদও যাবে এসআরবিতে

র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের জন্য ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়। পরে সেটিই আইনি কাঠামো পায়।

আইনে র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও দায়-দেনা এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। এর আওতায় র‍্যাবের সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের পাশাপাশি বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ, ব্যাংক হিসাব, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাব বই, রেজিস্টার, রেকর্ড ও অন্যান্য দলিল নতুন বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে।

পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট

আইন অনুযায়ী এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণে এনে ইউনিটটি গঠন করা যাবে।

এসআরবির সদস্যদের পদবিন্যাস, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্ত বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ইউনিটটির মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এসআরবির জন্য পৃথক পতাকা, প্রতীক ও পোশাক থাকার কথাও আইনে উল্লেখ রয়েছে।

যেসব অপরাধ দমনে কাজ করবে এসআরবি

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং গুরুতর অপরাধ মোকাবিলাকে এসআরবির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী ইউনিটটি বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণের মতো অপরাধ মোকাবিলায় কাজ করবে।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে এসআরবির।

আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি। প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ করে তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং আলামত জব্দের ক্ষমতাও থাকবে। এ ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা তদন্তকারী কর্মকর্তার নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা

এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ এবং সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আইনে পৃথক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। কমিটি অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে।

সদস্যদের পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায্য আচরণসংক্রান্ত অভিযোগও এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি ও পদোন্নতি স্থগিতসহ বিভিন্ন ধরনের লঘু ও গুরুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভাগীয় আদেশে সংক্ষুব্ধ কোনো সদস্যের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগও আইনে রাখা হয়েছে।