বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ

তফসিলের আগেই মণিরামপুরের মনোহরপুরে ভোটের উত্তাপ

তফসিলের আগেই মণিরামপুরের মনোহরপুরে ভোটের উত্তাপ

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৭ নং মনোহরপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে। তফসিল ঘোষণার আগেই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও সামাজিক আড্ডায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এ আলোচনায় যাদের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে আসছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন মনোহরপুর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে বিভিন্ন সময় মামলা, হামলা ও কারাবাসের শিকার হয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজন ও সমর্থকরা দাবি করেন। তারা আরও জানান, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন তাকে প্রবাসে অবস্থান করতে হয়। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি আবারও নিজ এলাকায় সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখেন।
ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও কৃষি খাতের উন্নয়ন নিয়ে তার বক্তব্য অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সম্ভাব্য প্রার্থী মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ বলেন, “মনোহরপুর ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে কাজ করতে চাই। জনগণ সুযোগ দিলে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার চেষ্টা করব। উন্নয়নের সুফল যেন ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করতে চাই।”
তিনি বলেন, ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, কৃষকের নানামুখী সংকট, অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বিশেষভাবে চিন্তিত। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মাদক নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক আন্দোলন, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং তরুণদের খেলাধুলা ও শিক্ষামুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনোহরপুর ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান সমস্যা ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা, গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থা, কৃষি খাতের সংকট, বেকারত্ব এবং মাদকের বিস্তার। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও জনগণের কাছে সহজে পৌঁছানো যায় এমন নেতৃত্ব দেখতে চান তারা।
ইউনিয়নের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা তত বাড়বে। উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা মূলত জনসংযোগ ও মতবিনিময় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর মনোহরপুর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চান। জনগণের আস্থা ও সমর্থন পেলে মনোহরপুর ইউনিয়নকে একটি উন্নত, আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব, কৃষিবান্ধব ও মাদকমুক্ত ইউনিয়নে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই ইউনিয়নে ছাত্রদল নেতা আসাদুল ইসলাম আসাদ ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আরো রয়েছেন ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এস এম আক্তার ফারুক মিন্টু, জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ এর মনোহরপুর ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি মোঃ আবু সাঈদ শাহিন ও রাজনৈতিক পরিচয় এর বাইরে রয়েছেন মোঃ মেহেদী হাসান সুমন। এখন পর্যন্ত এই চারজন প্রার্থীর প্রচার প্রচারণা এবং গণসংযোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।