বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ

গ্যাস সরবরাহ সামান্য বাড়লেও বিদ্যুতে সংকট, বেড়েছে লোডশেডিং

গ্যাস সরবরাহ সামান্য বাড়লেও বিদ্যুতে সংকট, বেড়েছে লোডশেডিং
গ্যাসের চুলা ও জ্বলন্ত মোমবাতি

গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় শিল্প কারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বস্তি ফিরলেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ও লোডশেডিং আরও বেড়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নাবান্নায় ভোগান্তি এখনও কাটেনি।

পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য বলছে, বুধবার বিকাল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৬১৭ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৯৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট।

মঙ্গলবার একই সময়ে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ বেড়েছে ৪ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে এই বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় আবাসিক গ্রাহকদের সংকটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি।

শিল্প ও সিএনজি খাতে কিছুটা স্বস্তি

গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় আগের তুলনায় গ্যাসের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সেই সুফল এখনও তেমনভাবে পৌঁছায়নি।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির মহাসচিব ফারহান নুর বলেন, আগের তুলনায় স্টেশনগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হয়েছে। যেসব স্টেশনে আগে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল না, সেগুলোর কিছুতে বুধবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে গ্যাসের চাপ এখনও কম থাকায় ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হয়নি।

আবাসিক এলাকায় কমেনি ভোগান্তি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লেও অনেক এলাকায় এখনও চুলা জ্বলছে না।

শান্তিনগরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, তাদের এলাকায় পুরোপুরি গ্যাস বন্ধ না হলেও কয়েক দিন ধরে দুপুরের দিকে চাপ খুব কম ছিল। বুধবার তিনি আগের তুলনায় ভালোভাবে গ্যাস পেয়েছেন।

অন্যদিকে পশ্চিম ধানমন্ডির বাসিন্দা শওকত আক্তার জানান, গ্যাস সরবরাহ বাড়ার খবর পেলেও তাদের এলাকায় পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনও বিদ্যুতের চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।

ভুতের গলির বাসিন্দা রুনা আক্তার বলেন, আগে সকালে গ্যাস পাওয়া যেত না। এখন গ্যাস এলেও চাপ কম থাকায় রান্না করতে বেশি সময় লাগছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাসের চাহিদা ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। মঙ্গলবার এসব কেন্দ্রে ৮৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বুধবার তা বেড়ে ৯৩১ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানাসহ বিভিন্ন খাতে বুধবার মোট ২ হাজার ৫০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। মঙ্গলবার এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৬৯ মিলিয়ন ঘনফুট।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পরিচালক (অপারেশন) সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের আওতাধীন এলাকায় গ্যাসের চাহিদা ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪১১ মিলিয়ন ঘনফুট।

তিনি জানান, এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ২২২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সার কারখানায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট দেওয়া হচ্ছে। অবশিষ্ট গ্যাস শিল্প, সিএনজি, আবাসিকসহ অন্যান্য খাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে শিল্প খাতেই সবচেয়ে বেশি গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।

সাইদুল হাসান বলেন, আগের তুলনায় সরবরাহ বাড়লেও গ্যাসের চাপ এখনও কম। সরবরাহ আরও না বাড়লে চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব নয়।

গ্যাস বাড়লেও বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও বেড়েছে

গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির পরও বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। বুধবার বিকাল ৫টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ২৭১ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি বা লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৩২ মেগাওয়াট।

মঙ্গলবার একই সময়ে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৩১৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লোডশেডিং বেড়েছে ৭১৩ মেগাওয়াট।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সংকট

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতির কারণ সম্পর্কে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে অন্যান্য সমস্যাও রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল।

তিনি জানান, কয়লাভিত্তিক সব বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। সেটি ১৭ বা ১৮ সেপ্টেম্বরের দিকে উৎপাদনে ফিরতে পারে। এছাড়া বুধবার সকালে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়ে গেছে।

এর পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ চলায় সেগুলোও উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এসব কারণে বুধবার বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছে বলে জানান পিডিবির এই কর্মকর্তা।

এর আগে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে বুধবার পর্যন্ত তার প্রত্যাশিত প্রভাব দেখা যায়নি।